Students Health Home 75th anniversary

পঁচাত্তরে পা, ছাত্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে অর্থসংগ্রহে স্টুডেন্টস হেলথ হোম

রাজ্য কলকাতা

স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সভায় বক্তব্য রাখছেন বিমান বসু।

বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পঁচাত্তর বছরে স্টুডেন্টস হেলথ হোম। ৭৫তম বর্ষ পালনে স্টুডেন্টস হেলথ হোম ৭৫ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে ন্যূনতম ৭৫ টাকা করে অনুদান সংগ্রহ করবে। ৭৫জন ছাত্রছাত্রীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মৌলালী কেন্দ্রে ৫৫ বেডের হাসপাতালে হবে। 


রবিবার, ৭৫ তম বর্ষ পালনের লক্ষ্যে, প্রস্তুতি সভা হয়েছে কলকাতার মৌলালি যুব কেন্দ্রে। এদিন উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের সভাপতি ও স্টুডেন্টস হেলথ হোমের আজীবন সদস্য বিমান বসু, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শঙ্কর নাথ। ছিলেন হোমের প্রাক্তন ও বর্তমান সংগঠক, শুভানুধ্যায়ী, সদস্যরা। 
৭৫ বছরে পথ চলা পালনে কর্মসূচি জানিয়েছেন স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ পবিত্র গোস্বামী। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৭৫টি প্রান্তিক গ্রামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরও করবে হেলথ হোম। জেলাভিত্তিক ৭৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হেলথ হোমের সদস্য করা হবে।  
এদিনের অনুষ্ঠানে বিমান বসু বলেছেন, "২ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছরে পদার্পণ করবে স্টুডেন্ট হেলথ হোম। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হেলথ হোমের ধারণা স্পষ্ট নয়। আমরা যারা প্রবীণ তাদের স্মৃতিতেও কিছুটা ধুলো জমেছে। ছাত্রদের উত্তাল আন্দোলনের সঙ্গী এই স্টুডেন্ট হেলথ হোম। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে এ রাজ্যে দুর্বার ছাত্র আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। কম দামে শিক্ষা সামগ্রী পাওয়ার জন্য চিপ স্টোরের আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের সময়ই ওঠে ছাত্রদের সুস্বাস্থ্যের দাবি।
বসু বলেছেন, সে সময়ে ডাক্তার ত্রিগুনা সেন কলকাতার মেয়র ছিলেন। তাঁর কাছেই স্টুডেন্ট হেলথ হোমের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার আবেদন করা হয়। বিধানসভায় জ্যোতি বসু অনুদান দেওয়ার দাবি করেন বারবার। পরবর্তীকালে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় সেই অনুদান চালু করেন। তারপর শুরু হয় মূল ভবনের কাজ। 
বিমান বসু স্মৃতিচারণায় বলেন যে মূল ভবনের কাজ শুরু হওয়ার জন্য বিরাট রক্তদান শিবির হয়েছিল। তিনি সেখানে সতের বছর বয়সে রক্তদান করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ছাত্রছাত্রীরা প্রথম দিন থেকেই যুক্ত ছিলেন হোমের সঙ্গে। ছাত্রদের গর্বের জায়গা ছিল এটি। তা আমাদের রক্ষা করতে হবে। নতুন প্রজন্ম, নতুন অংশের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যুক্ত করে স্টুডেন্টস হেলথ হোমের ৭৫ বছর উ্‌দযাপন করতে হবে। 


শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন স্টুডেন্টস হেলথ হোম ৭৫ বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের সুস্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং যুক্তিবাদী মননের লক্ষে কাজ করেছে। ষাটের দশকে খড়্গপুরের কয়েকজন ছাত্র যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে রোগী চিকিৎসার জন্য চিনে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছিল হেলথ হোম। সে সময়ে যক্ষ্মা রোগ ছিল ভয়াবহ। 
তিনি বলেছেন, আমাদের কাজ হবে হেলথ হোমের এই কর্মযজ্ঞকে ছড়িয়ে দেওয়া। সকলের ন্যায্য মূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের আন্দোলনকে সুদৃঢ় করা।


ডাঃ পবিত্র গোস্বামী বলেছেন, ২০১২ সালে  আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে অনুদান বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। কমিশন তদন্ত করেছিল কিন্তু সেই রিপোর্ট আজও বের হয়নি। হেলথ হোমের অনুদান আজও বন্ধ। প্রতিকূলতার মধ্যেও হেলথ হোম তার লক্ষ্যে অবিচল রয়েছে।
বিকল্পের একটি নমুনা হাজির করেন ডাঃ গোস্বামী। একটি কর্পোরেট হাসপাতালে এক রোগীর ছয় দিনে বিল হয় প্রায় চার লক্ষ টাকা। সেই রোগী হেলথ প্রায় ৪২ দিন ছিলেন। আইসিইউ-তে ছিলেন ২৮ দিন। তাঁর মোট খরচ হয় ৪ লক্ষ টাকা।

Comments :0

Login to leave a comment