Nandigram Assembly By-Election

নন্দীগ্রামে বামফ্রন্টকে হুমকি বিজেপি’র, দখল পার্টি দপ্তর

রাজ্য জেলা

ফাইল ছবি

‘‘নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে কেবল বিজেপি থাকবে। বামপন্থীদের এখানে জায়গা নেই। কোনও প্রচার করা যাবেনা, ভোটের দিন পোলিং এজেন্ট বসানো যাবেনা। এমন ফতোয়া এখন নন্দীগ্রামে।’’ সিপিআই(এম) নেতা, কর্মীদের বাড়িতে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো এসব করছে বিজেপির কর্মীরা। তবে শুধু ফতোয়া নয় সিপিআই(এম)'র অফিস দখল করল বিজেপি। নন্দীগ্রামের তেরপেখিয়ায় সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটির অফিসে ঢুকে তান্ডব চালানোর পর তালা লাগিয়ে দেয় কিছু ব্যক্তি। নিজেদের বিজেপির কর্মী পরিচয় দিয়ে সিপিআই(এম) অফিসের সামনে বিজেপির ঝান্ডা লাগিয়ে দেয়। 
সোমবার বামফ্রন্ট প্রার্থীর প্রচারের সময় সিপিআই(এম) কর্মী প্রিতম কয়ালকে ফোন করে কেউ জানায় তার বাড়িতে হামলা করতে অনেকে যাবে। এমন ফোন গুরত্ব না দিয়ে প্রচার চলে। সকাল দশটা নাগাদ প্রিতম কয়াল বাড়ি ফিরে তার কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সেসময় বিজেপির ২৫-৩০ জন কর্মী গিয়ে হুমকি দেয় কোনোভাবেই বামফ্রন্টের প্রচার করা যাবেনা। বিজেপি ছাড়া নন্দীগ্রামে কেউ প্রচার করতে পারবেনা। বুথে পোলিং এজেন্ট বসা যাবেনা। 
এঘটনায় প্রিতম কয়াল সহ তাঁর বাড়ির লোকেদের সাথে বচসা হয়। কিছু পরেই দেখা যায় তেরপেখিয়া বাজারে থাকা সিপিআই(এম)’র এরিয়া কমিটির অফিসে হামলা করে বিজেপির লোকজন। তালা লাগিয়ে দখল করা হয়। সিপিআই(এম) কর্মীদের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে এসে কার্যত বিরোধী শূন্য করার সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল ‘‘আমি ভোট করাতে জানি। বিজেপি এখানে এমন ব্যবধানে জিতবে কেউ কল্পনাও করতে পারবেনা।’’ সংখ্যালঘুদের উদ্যেশ্যেও তিনি বলেছিলেন ‘‘সংখ্যালঘুরা ঠিক করুক কাদের সাথে থাকবে। নিজেদের ভালো বুঝে বিজেপির সাথে থাকবে নাকি বিরোধী শিবিরে।’’ এদিকে নন্দীগ্রামের বিজেপির প্রার্থী হাসি রানি রথ বলেছেন, বিজেপি এখানে দেড় লক্ষের বেশী ভোটে জিতবে। প্রসঙ্গত নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর প্রার্থী থাকলেও কার্যত তারা ভোট ময়দানে নেই। এদিকে কংগ্রেসের প্রার্থী যিনি একসময় শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাঁকে ২০০৭ সালের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে উপনির্বাচনের ঘোষণার সাথে সাথে নিবিড় প্রচারে সামিল রয়েছে বামফ্রন্টের প্রার্থী ও কর্মীরা। সিপিআই(এম)’র সমস্ত স্তরের নেতা কর্মীরাও প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি প্রচার করছেন। নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের ভরসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে লাল ঝান্ডা। আর এই ছবিটাই মানতে পারছেনা বিজেপির লোকজন। তাদের আক্রমণের কেন্দ্রে সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্টের কর্মীরা। ফলে দখল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে সিপিআই(এম) দপ্তর।
জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন ‘‘এত ভয় বিজেপির কেন? তাহলে এভাবেই ভয় দেখিয়ে ভোট লুঠ করে দেড় লক্ষ ভোটে জেতার পরিকল্পনা করছে তারা। বিজেপির সাহস থাকলে সচ্ছ নির্বাচন করুক, নন্দীগ্রামের মানুষ ঠিক করবে কারা জিতবে।’’
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রানী রথ। তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তাঁর আগে হলদিয়ায় দলীয় সভা হয় বিজেপির। সেই সভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেদিন তাঁকে বলতে শোনা যায় ‘‘নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে মুসলমানদের কাছে পরীক্ষা এই নির্বাচনে। যাঁরা আমাকে ভোট দেন না, বিজেপিকেও দেন না, মানে সংখ্যালঘুরা, তাঁদের কিছু বলতে চাই। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে সংখ্যালঘুদের কাছে একটা আবেদন করে শেষ করব। একটা সুযোগ এসেছে আপনাদের কাছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন? আপনারা কি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চান? হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান? কাজ নিতে চান কি না? ৬ অক্টোবর, রেজিনগর আর নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। আপনারা পরীক্ষায় পাশ করবেন না ফেল করবেন, আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম। 
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন দলীয় সভা থেকে যে ভাষায় কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর এদিনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে নন্দীগ্রামে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভোট হবে কিনা।

Comments :0

Login to leave a comment