Dinhata Gang Raped

দিনহাটায় নাবালিকাকে দলবেঁধে ধর্ষণে অভিযুক্তদের আড়ালের চেষ্টা, অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী

রাজ্য জেলা

ফের দিনহাটার গ্রামে ৫ নাবালকের লালসার শিকার হল মাত্র ৭ বছরের শিশু কন্যা! ঘটনায় স্তম্ভিত কোচবিহার। প্রশ্ন উঠেছে, কবে এ রাজ্যে সুরক্ষা পাবে শিশু থেকে বৃদ্ধা! ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পরেও অধরা অভিযুক্তরা। 
সাত বছরের ফুটফুটে মেয়েটা মহকুমা হাসপাতালের বেডে শুয়ে বুধবারও বুঝে উঠতে পারছে না কি ঘটে গেছে তার সঙ্গে! রুগ্ন মা বেডের একপাশে বসে কাঁদছেন। ডাক্তার আসছেন দেখে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে এসেছিল পুলিশও!
মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। বাবা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ বাড়িতে শিশুটি একাই খেলছিল আপনমনে। তখন গ্রামেরই ৫ নাবালক ছেলে ঘরে ঢুকে পাশবিক অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা নাবালিকার চিৎকারে ছুটে আসেন। তারাই খবর দেয় মা-বাবাকে। মেয়ে তখন জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের ভর্তির রেজিস্টারের বলছে রবিবার রাত ১১. ৩৬ নাগাদ অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটি ভর্তি হয়েছে। এরকম একটি ঘৃন্য ঘটনার কথা চিকিৎসা করতে গিয়ে বুঝতে পেরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জানায় নি সেটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন দিনহাটাবাসী।
এরপরেই গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী সুজাতা চক্রবর্তী, মুক্তা রায়, দেবযানী মিত্র সহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে পৌঁছোয়। কথা বলেন নিপীড়িতা নাবালিকার মায়ের সাথে। কথা হয় চিকিৎসকদের সঙ্গেও। এরপর নাবালিকার মা দিনহাটা থানায় গিয়ে মঙ্গলবার রাত ১০ টা নাগাদ এফআইআর দায়ের করেন।
সাংবাদিকদের নিপীড়িতার মা মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন,  মেয়েকে নিয়ে যখন আমি হাসপাতালে আসি তখন বিজেপির এক স্থানীয় নেত্রী আমার সাথে ছিলেন। তিনি আমাকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নেবার পরামর্শ ও দিয়েছিল। তিনি আরও জানান, আমার মেয়ের চরম ক্ষতি যারা করেছে তাদের মধ্যে ছিল আসরাফুল হক(১৫), আসিক মিয়া(১০), ময়না রহমান(১২)। এদের সঙ্গে আরও দুই নাবালক ছেলে ছিল। আমি চাই আমার মেয়ের যারা চরম ক্ষতি করেছে আইন তাদের যোগ্য শাস্তি দিক।
দিনহাটার যে গ্রামে নাবালিকার ওপর চরম অন্যায় হয়েছে সেখানকার প্রতিবেশীরা বলছেন, আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা অতীতে ঘটেনি। তাদের কথায় নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে পুলিশকে ফ্রি-হ্যান্ড দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি বলেছিলেন, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’। কোনও মহিলা, কন্যার ওপরে কিছু ঘটলে, কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করবেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘‘কোনও মহিলা কন্যার ওপরে কিছু ঘটলে, কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করবেন না। যা করতে চান করে দেবেন। আপনাকে ঢাল হিসেবে রক্ষা করবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ কিন্তু এখনও দেখা যাচ্ছে বিজেপি কথায় একরকম আর কাজে আরেক রকম। পাঁচজন নাবালক এক সাত বছরের শিশুর উপর পাশবিক অত্যাচার চালালো আর টাকা দিয়ে অভিযুক্তদের আড়ালের চেষ্টা করল বিজেপি নেত্রী। 
ঘটনা প্রসঙ্গে দিনহাটার সিপিআই(এম) নেতা শুভ্রালোক দাস বলেন, মঙ্গলবার আমরা জানতে পারি দিনহাটা শহর লাগোয়া একটি গ্রামের একটি ৭ বছরের মেয়ের ওপর পাশবিক অত্যাচার হয়েছে। ঘটনার দুদিন পরেও পুলিশ জানতেই পারেনি এধরনের ঘৃন্য অপরাধ ঘটেছে। তিনি বলেন, এরকম জঘন্য ঘটনাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিজেপির যে বা যারা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল তাদের পুলিশের তদন্তের আওতায় নেওয়ার দাবি করছি। পাশাপাশি দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে দলবেঁধে ধর্ষনের শিকার হয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন পুলিশকে ভর্তির ৪৮ ঘন্টা পরেও জানায় নি সেটাও তদন্ত করে দেখুক।
প্রতিবেশীরা জানান, নাবালিকার ওপর পৈশাচিক অত্যাচারের সময় নাবালিকার চিৎকারে ওই বাড়িতে ঢুকে ওই ৫ নাবালকে দেখেছি। সাত বছরের শিশুটিকে নিয়ে যখন আমরা ব্যস্ত তখন ওরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী সুজাতা চক্রবর্তী বলেন, অভিযুক্তরা নাবালক হলেও ঘটনাটি লজ্জ্বাজনক। ওদের শাস্তির পাশাপাশি শিশুটির সুরক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের সাহায্য অত্যন্ত জরুরী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা শিশুর মেডিকেল টেস্ট হয়েছে। রিপোর্ট সামনে এলেই বোঝা যাবে কতটা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল শিশুটি। দিনহাটা থানা সূত্রে জানা গেছে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment