Chaos in Chandrakona School

পরীক্ষার দায়িত্ব শিক্ষকদের, চন্দ্রকোণার স্কুলে অব্যবস্থ্যা

জেলা

ছবি- চন্দ্রকোনা টাউনে অতসী স্মৃতি হাইস্কুলে একই রুমে একাধিক শ্রেনীর পড়ুয়াদের বসিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন প্যারাটিচার।

থাকার কথা ১৭ জন শিক্ষক, রয়েছেন মাত্র ৬ জন, তারমধ্যে ৪ জনকে পরপর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তুলে নেওয়ায় লাটে উঠেছে স্কুলের পঠন-পাঠন।  একই রুমে একাধিক শ্রেনীর পড়ুয়াদের বসিয়ে প্যারা টিচার ক্লাসের নামে পাহারা  দিচ্ছেন।
কেনও  একই স্কুল থেকে পরপর দুটি পরীক্ষায় শিক্ষক সরানো হলো তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকের  অভাবে একই ক্লাস রুমে দুইটি করে শ্রেনীর পড়ুয়াদের নিয়ে চলছে ক্লাস, পড়াচ্ছেন প্যারাটিচার।এমনই ঘটনা ঘটেছে চন্দ্রকোণা পৌরসভার ঠাকুরবাড়ি অতসী স্মৃতি হাইস্কুলে। মাধ্যমিক পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৬৬০ জন। অনুমোদিত পদে  শিক্ষক থাকার কথা ১৭ জন। প্রধান শিক্ষক ছাড়া বর্তমানে মাত্র ছ'জন শিক্ষক রয়েছেন স্কুলে। সেই সঙ্গে রয়েছেন দু'জন প্যারাটিচার। 
৬ জন স্থায়ী শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন শিক্ষককে পরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইনভিজিলেটর হিসাবে অন্যস্কুলে পাঠানও হয়েছে । বাকী ২ জন শিক্ষকের একজন ছেলের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ছুটি নিয়েছেন। অপর একজন এখন মেয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার  জন্য ছুটি  নিয়েছেন। একজন স্থায়ী ও ২ জন প্যারাটিচার দিয়ে মাধ্যমিক স্কুল চলছে। একটি ঘরে দু'টি ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের বসিয়ে পড়াচ্ছেন দু'জন প্যারাটিচার।
এমনিতে শিক্ষক সংকট, তা সত্ত্বেও সেই স্কুল থেকে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটিতে শিক্ষক নেওয়া নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। 
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১-এ স্কুলের দু'জন শিক্ষক স্থানান্তর  হয়ে যান। ২০২৫-এ আরও দু'জন অবসর নেওয়ার পরে স্কুলে শিক্ষক সঙ্কট চরম আকার নেয়। তারপর থেকে আর কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। অঙ্ক, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোলের মতো বিষয়গুলি পড়ানো মতো কোনো শিক্ষক নেই। এই কারণে  টিফিনের পর অর্থাৎ মিড ডে মিল খাইয়েই ছুটি দিতেও বাধ্য হয়েছে স্কুল। 
পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রিম্পা দাস ও সুমাইয়া খাতুনের কথায়, 'স্কুলে স্যর কম, তাই আমাদের এভাবেই ক্লাস করতে হচ্ছে। একটা রুমে গাদাগাদি করে ক্লাস হওয়ায় আমাদের পড়া বুঝতে অসুবিধা হয়।'
এক প্যারাটিচার বিশ্বনাথ মাইতি বলেন, 'আমাদের যা কাজ তার বাইরেও আমাদের দিয়ে সব কিছু করানো হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে আমরা তাও করছি। কিন্তু প্রাপ্য বেতন থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি ভাতা বাড়লেও তাদের বেতন বাড়েনি। সহকারী শিক্ষকদের কাজ প্যারাটিচারদের দিয়ে করানো দুর্ভাগ্যজনক।
প্রধান শিক্ষক বুদ্ধদেব বক্সী বলেন, পরীক্ষার গার্ড দিতে প্রসাশন  শিক্ষক চেয়ে আমাদের কাছে লিখিত নোটিশ  পাঠায়। আমরা সমস্যার কথা বললেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই চার জনকে দিতে হয়েছে। নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ না হলে সমস্যা মিটবে কী করে? পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, এতো অস্বীকার করার কিছু নেই। শিক্ষকের অভাব রয়েছে, তা সবাই জানে। 
চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের স্কুল পরিদর্শক দীপাঞ্জন মণ্ডল বলেন, 'শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে জানি। পরীক্ষা চালাতে গিয়ে এছাড়া কোনো গতি নেই। নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ হলে তবেই সমস্যা মিটবে। ততদিন এই ভাবে চালাতে হবে  আমাদের।

 

Comments :0

Login to leave a comment