অগ্নিযুগের সাহসী বিপ্লবী বীরেন্দ্রনাথ দত্ত গুপ্ত-র ১১৭তম প্রয়াণ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল জলপাইগুড়িতে। স্বাধীনতা আন্দোলনে জলপাইগুড়ি জেলার প্রথম শহীদ তিনি। বাঘা যতীনের সহযোদ্ধা ও অনুশীলন সমিতির একনিষ্ঠ সদস্য এই বিপ্লবীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ চত্বরে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
বীরেন্দ্রনাথ দত্ত গুপ্ত স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্যবৃন্দ ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন। ভারতীয় গণনাট্য সংঘ জলপাইগুড়ি জেলা শাখার সম্পাদিকা সুপর্ণা দাশগুপ্ত ও সহশিল্পীবৃন্দ দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন।
আলোচনায় বক্তারা স্মরণ করেন, জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র বীরেন্দ্রনাথ দত্ত গুপ্ত ১৯১০ সালের ২৪ জানুয়ারি আলিপুর কোর্টে ব্রিটিশ পুলিশ আধিকারিককে গুলি করেন। এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপে কেঁপে ওঠে ব্রিটিশ শাসন। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কার্যত বিনা বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এদিন সভাপতি ডাঃ পান্থ দাশগুপ্ত, প্রবীণ শ্রমিক নেতা প্রদীপ গোস্বামী, জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক সলিল আচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য নেতৃত্ব গোবিন্দ রায়, কর্মচারী আন্দোলনের নেতা তপন মৈত্র, পার্থসারথি চক্রবর্তী এবং কৃষ্ণা রায় বর্মনসহ অন্যান্য বক্তারা অগ্নিযুগে বাংলার বিপ্লবীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙলার আত্মবলিদান অনস্বীকার্য। অথচ আজ সেই বাঙালিকেই নানা সময় ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে সন্দেহ ও প্রত্যাখ্যানের রাজনীতি করা হচ্ছে। ইতিহাসের এই বিকৃতি ও অপমানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্তদের স্মরণ করা সময়ের দাবি।
সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন জানান, জেলার প্রথম শহীদের নামে একটি রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব নিয়ে পূর্বের বিভ্রান্তি দূর হয়েছে; আগামীতে তাঁর নামে রাস্তা নামাঙ্কিত করা হবে।
Freedom Fighter Jalpaiguri
স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদকে স্মরণ জলপাইগুড়িতে
বীরেন্দ্রনাথ দত্ত গুপ্ত স্মরণ অনুষ্ঠানে সঙ্গীর পরিবেশন।
×
Comments :0