USA Tariff

সুপ্রিম কোর্টের চাপে শুল্ক কমলো ৮ শতাংশ

জাতীয় আন্তর্জাতিক

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ১৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ শুল্কে নামলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাতিল করেছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সেদেশের শীর্ষ আদালত জানায়, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন দেশের আমদানি শুল্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ঝড় তুলেছেন, তার কোনও আইনি বৈধতা নেই। আপতকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য যে আইনের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ব্যবহারের একতিয়ার তাঁর নেই। আদালতের রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ‘তাঁর কর্তৃত্বের গণ্ডি অতিক্রম করে’ ১৯৭৭ সালের একটি আইনকে শুল্ক বাড়ানোর জন্য কাজে লাগিয়েছেন। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন শুল্ক নীতি চালু হবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ে কোন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতের ওপর যে শুল্ক চাপিয়েছে তার ফলে কৃষি সহ একাধিক ক্ষেত্র সঙ্কটের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক লাগু হয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে শুল্ক চাপানোর ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে যার ফলে কমবে রপ্তানি।  করোনা অতিমারির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যেমন ভাবে কয়েকটি ক্ষেত্রকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল এবারও সেই একই নীতি মানা হতে পারে। 
ভারতের  ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপানো নিয়ে কড়া সমালোচনার সাহস দেখায়নি ভারত সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক মার্কিন পদক্ষেপকে "অযৌক্তিক, অন্যায্য এবং ভিত্তিহীন" বলে চিহ্নিত করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিজেদের দেশের মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ভারতের মতো অন্য অনেক দেশ, যার মধ্যে চীনও রয়েছে, এই ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা "অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য চীনের ওপর শুল্ক চাপিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই চাপের কাছে চীন মাথা নত না করে পাল্টা শুল্ক চাপায় মার্কিন পণ্যের ওপর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পিছু হটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এখানে প্রশ্ন থাকছে ‘বিশ্বগুরুর’ সরকার কেন পাল্টা কুটনৈতিক ভাবে মার্কিন শুল্ক নীতির মোকাবিলা না করে চুপ করে তা মেনে নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করেছে তার প্রমাণ সরকারের এই বিশেষ সাহায্যের ইঙ্গিত।
ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর মোট শুল্কের বোঝা ৫০ শতাংশে উন্নীত করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান। ইউএস-ভিত্তিক উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের এই পরিচালক এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভারত যেহেতু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্পকে দিতে রাজি হয়নি, তাই তিনি ভারতকে শাস্তি দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment