ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র ২৭তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলন শেষ হয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি। পরদিন ২৬ তারিখ থেকেই দুষ্কৃতী-লুটেরাদের ক্ষমতা থেকে হটানোর অভিযান শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে সম্মেলনের কুল ছাপানো প্রকাশ্য সমাবেশ। এই অভিযান পর্বান্তরে উন্নীত হবে ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনের পর। সম্মেলন কমিউনিস্ট পার্টির একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া। একে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ মঞ্চও বলা যায়। সাধারণভাবে প্রতি তিন বছর অন্তর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজ্যের পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পার্টির কাজের পর্যালোচনা হয় এই সম্মেলনে। সাংগঠনিক দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা, প্রকৃত বাস্তবতার সুনির্দিষ্ট উপলব্ধির মধ্য দিয়ে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ ও আন্দোলন গড়ে তোলায় ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা, যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি, ফাঁক-ফোকর চিহ্নিত করার উপযুক্ত ও আদর্শ মঞ্চ এই সম্মেলন। একেবারে শাখা স্তর থেকে পার্টিকর্মী-সদস্যদের সমালোচনা-আত্মসমালোচনার নির্যাস এরিয়া সম্মেলন ও জেলা সম্মেলনে আলোচিত-পুনরালোচিত হয়ে উঠে এসেছে রাজ্য সম্মেলনে। তারই ভিত্তিতে যতটা সম্ভব চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে দোষ-ত্রুটি-ঘাটতিগুলিকে। পার্টির অভ্যন্তরের এইসব ত্রুটি-বিচ্যুতি-সীমাবদ্ধতার উৎস ও কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। তার মধ্য দিয়ে যে আত্মোপলব্ধিতে উত্তরণ ঘটেছে তাকে হাতিয়ার করেই মতাদর্শের বাতিস্তম্ভকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের পথরেখা স্থির করেছে চারদিনের রাজ্য সম্মেলন। সেটাই প্রকাশ্য সমাবেশে অনুরণিত হয়েছে ‘২৬ থেকেই শুরু ২৬-র লড়াই’ রূপে। যে লড়াই শুরু হয়েছিল ‘চোর ধরো জেল ভরো’ দিয়ে নানা স্তর অতিক্রম করে এবার সে লড়াই উন্নীত হবে ‘চোর তাড়াও রাজ্য বাঁচাও’-র মধ্য দিয়ে। বস্তুত এটাই রাজ্যের খেটে খাওয়া মানুষের সামনে এই সময়ের সবচেয়ে বড় লড়াই। এই লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে স্থির হবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ।
সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সিসিপিআই(এম) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে নৈরাজ্যবাদী লুটেরাদের দুঃশাসনে মানুষের রুজি-রোজগারের সম্ভাবনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলাকে রসাতলে পাঠিয়ে রাজ্যটাকে চোর, গুন্ডা, দুষ্কৃতী, ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্য বানানো হয়েছে। মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত। খেটে খাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে মানুষকে ভাতা নির্ভর করে আত্মমর্যাদাহীন করার চেষ্টা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছে সম্মেলন। একদিকে লুটেরার দল তৃণমূল অন্যদিকে তাদের দোসর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনকারী বিজেপি’র সর্বনাশা পথের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্পকে তুলে ধরা এবং তাকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও ভরসাযোগ্য করে তোলাই আগামীদিনে পার্টির প্রধান কাজ বলে ঘোষিত হয়েছে। লড়াই শুরু করে মাঝপথে থমকে যাওয়া নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনা যায় ততক্ষণ লড়াইয়ের দামামা বাজিয়ে যেতে হবে। শাসকের মেরুদণ্ডে কাঁপুনি ধরানোর লড়াই চালাতে হবে। তাদের ঘুম ছুটিয়ে দিতে হবে। একেবারে বুথ স্তর থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও পঞ্চায়েতে প্রতিটি মেহনতি মানুষের ঘরে গিয়ে কড়া নাড়তে হবে। তাদের দুঃখের সাথি হতে হবে। তাদের জীবন সংগ্রামের পাশে থাকতে হবে। তবেই অদূর ভবিষ্যতে গড়ে তোলা যাবে বৃহত্তর গণআন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গ। সেই তোড়ে ভাসিয়ে দেওয়া যাবে মেহনতি মানুষের শত্রুদের। এই ২৬-শের লড়াই এখন পাখির চোখ।
The fight for 26
২৬ থেকে শুরু ২৬-র লড়াই

×
Comments :0