শাসকদলের ছাতার তলায় থেকে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলো এক তৃণমূল নেতা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ধৃতদের নাম মহম্মদ আবদুল্লা ও মোস্তাকিম শা। আবদুল্লা ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের পরিচিত মুখ। অন্যদিকে তার সাগরেদ মোস্তাকিমের বাড়ি ধূপগুড়ি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। রবিবার রাতে ধূপগুড়ি থেকেই ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হলে আদালত আবদুল্লাকে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজত এবং মোস্তাকিমকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
এলাকার একাধিক ফৌজদারি মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের টার্গেট করাই ছিল এই চক্রের কাজ। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ‘খাস যোগাযোগ’ থাকার দোহাই দিয়ে মামলার রফা করা, জামিন পাইয়ে দেওয়া কিংবা পুলিশি কেস হালকা করে দেওয়ার টোপ দিয়ে দিনের পর দিন অভিযুক্তদের পরিবারগুলির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল তৃণমূল নেতা আবদুল্লা।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নাবালিকা ধর্ষণে অভিযুক্ত পকসো মামলার আসামিদেরও জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়েছে এই চক্র।
এই জালিয়াতির কারবারে আবদুল্লার মূল চালিকাশক্তি ছিল মোস্তাকিম শা। মোস্তাকিম নিজেকে 'আইনজীবী' পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তদের আইনি জটিলতার ভয় দেখাত এবং টাকা দিতে বাধ্য করত। পুলিশ জানিয়েছে, মোস্তাকিমের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেই গোটা তোলাবাজির সিন্ডিকেট চালানো হতো এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেন চলত ওই ফোনের মাধ্যমেই।
এই গ্রেপ্তারির পর শাসকদলের সঙ্গে অপরাধীদের যোগসূত্র নিয়ে ময়নাগুড়ি জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশ্রয় ও পুলিশের একাংশের মদত ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এভাবে থানা ও আদালতের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা চালানো অসম্ভব। দুর্নীতি নিয়ে যথারীতি মুখ পুড়তেই ধৃতদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে ব্যস্ত স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
TMC Leader Arrested
পুলিশের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি, ধৃত তৃণমূল নেতা ও তার ‘আইনজীবী’ সাগরেদ
×
Comments :0