রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ ঘিরে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা গার্ডিয়ান’-র প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভুয়ো আখ্যা দিল ভেনেজুয়েলা। ওই প্রতিবেদনে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে আমেরিকায় তুলে নিয়ে আসার পিছনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রড্রিগেজের ‘গোপন বোঝাপড়ার’ অভিযোগ তোলা হয়।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতির দপ্তর বলেছে, ‘‘একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে তুলে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার মাটিতে আমেরিকার এই আগ্রাসনকে আড়াল করতে ফাঁদা হয়েছে ‘গোপন বোঝাপড়ার’ গল্প।’’
গত ৩ জানুয়ারি রাতে ভেনেজুয়েলায় বোমা ফেলতে শুরু করে আমেরিকার সেনা। বিশেষ বাহিনী রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢুকে তুলে নিয়ে যায় মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। তার কয়েকমাস আগে থেকে ‘নিষিদ্ধ মাদক চোরাচালানের’ অভিযোগ তুলে ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার তটে মোতায়েন করে রাখা হয় আমেরিকার নৌবাহিনীকে। ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জলযানে যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোঁড়া হতে থাকে লাগাতার গোলাগুলি। নিহত হন ভেনেজুয়েলার প্রায় একশো নাগরিক। কোথাও মাদক পাচারের কোনও প্রমাণ আমেরিকা দিতে পারেনি।
এদিকে গার্ডিয়ান’র প্রতিবেদনে নাম না করে বিভিন্ন সূত্রের দাবি জানিয়ে ‘মাদুরোর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে ওয়াশিংটনের গোপন বোঝাপড়ার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। মাদুরোর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনে উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন ডেলসি রড্রিগেজ। তাঁর ভাই জর্জ রড্রিগেজকেও দায়ী করা হয়েছে। মাদুরের অপহরণের পর ভেনেজুয়েলা জানায় রাষ্ট্রপতি মাদুরোই, তাঁকে মুক্তি দিতে হবে। সে সময়ে শীর্ষ আদালত দায়িত্ব সামলানোর জন্য নিয়োগ করে ডেলসি রড্রিগেজকে।
ভেনেজুয়েলার পক্ষে প্রতিবেদনকে খারিজ করে বলা হয়েছে যে ‘একবার বলা হয়েছে আগে থেকেই শলা পরামর্শ করা হয়েছে। আরেকবার বলা হয়েছে মাদুরোকে অপসারণের পর বার্তা বিনিময় শুরু হয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে। প্রতিবেদনের কোথাও পক্ষে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন কারও নির্দিষ্ট মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এই প্রতিবেদন ডেলসি রড্রিগেজের নৈতিক সততাকে ঘিরে সংশয় তৈরির চেষ্টা চলছে। এই চেষ্টা বিপজ্জনক।
উল্লেখ্য, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরিই ভেনেজুয়েলায় ‘শাসন দখলের’ লক্ষ্যে নেমেছেন। মাদুরোকে অন্য দেশে সরে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তিনি সে প্রস্তাব খারিজ করেন। আমেরিকার সামরিক অবরোধের পর্বে মাদুরোর পাশে বারবার দেখা গিয়েছে জনতার ভিড়। বস্তুত ভেনেজুয়েলায় বামপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে, টানা দু’দশকেরও বেশি সময় অর্থনৈতিক অবরোধ চালিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। রাষ্ট্রপতিকে গোপনে হত্যার চেষ্টাও হয়েছে। জনমত তৈরি করতে বারবার নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে প্রবল সক্রিয় থেকে আমেরিকা এবং উরোপের সংবাদমাধ্যম। ভেনেজুয়েলার পাশে বারবার দাঁড়িয়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। পাশে থেকেছে উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশও।
ভেনেজুয়েলা বলেছে, পশ্চিমের সংবাদমাধ্যম ভুয়ো খবর দ্রুত ছড়াচ্ছে। তার পালটা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট মিরাফ্লোজ আল মোমেন্টোতে (“Miraflores Al Momento”) প্রচার গড়া হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ভেনেজুয়েলার পেট্রোলিয়ামের দখল নেবে আমেরিকা। বিভিন্ন তেল কর্পোরেটকে বিনিয়োগ করতেও বলেছেন। কিন্তু ডেলসি রড্রিগেজ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় পরিষদের বৈঠকে বলেছেন যে ভেনেজুয়েলার জাতীয় সম্পদ বাবদ অর্থ ব্যবহার করা ভেনেজুয়েলার মানুষের উন্নয়নেই।
Maduro Delcy Venezuela
মাদুরোকে অপহরণ ঘিরে গার্ডিয়ান’-র খবর ভুয়ো, বলল ভেনেজুয়েলা
মাদুরকে অপহরণের পর রাস্তায় নেমেছিল ভেনেজুয়েলার জনতা।
×
Comments :0