নীতিন নবীনের নেতৃত্বাধীন নতুন সর্বভারতীয় কমিটি ঘোষনা করলো বিজেপি। সোমবার বিজেপির পক্ষ থেকে যেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে একাধিক নতুন মুখকে দেওয়া হয়েছে সর্বভারতীয় দায়িত্ব। নতুন পুরনো দুইয়ের ভারসাম্যকে বজায় রেখে নতুন পদাধিকারী নির্বাচন করেছে বিজেপি।
যেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে স্মৃতি ইরানি, বসুন্ধরা রাজেদের মতো নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার মনোজ টিগ্গার মতো নতুন মুখকেও তুলে আনা হয়েছে সর্বভারতীয় স্তরে।
আট জন সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন স্মৃতি ইরানি, বিপ্লব দেব, সুনীল বনসল, মহারাষ্ট্রের নেতা বিনোদ তাওড়ে, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র পটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হয়েছেন দু’জন— প্রাক্তন আরএসএস নেতা শিবপ্রকাশ এবং সৌদান সিংহ। আরএসএস থেকে একদা বিজেপি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন রাম মাধব। পরবর্তী সময় আবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। নতুন কমিটিতে তাকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সহ-সভাপতি হয়েছেন বসুন্ধরা রাজে, উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ সিংহ রাওয়তের মতো প্রথমসারির নেতারা। এরাজ্য থেকে সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে মধুছন্দা করকে।
আইটি সেলের প্রধানের পদ থেকে সড়ানো হয়েছে অমিত মালব্যকে। তার জায়গায় আনা হয়েছে দীপক মাশকে’কে। যুব মর্চার সভাপতির পদ থেকে সড়ানো হয়েছে সাংসদ তেজস্বী সূর্যকে। সেই জায়গায় যুব মর্চার নতুন সভাপতি হয়েছেন হেমাঙ্গ যোশী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে আনা হয়েছে জাতীয় কোষাধ্যক্ষ পদে।
বিজেপি সূত্রে খবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারনের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে এই রদবদল। সেই ক্ষেত্রে তেজস্বী সূর্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন বলে রয়েছে জল্পনা।
তবে নীতিন নবীনের নেতৃত্বে যেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে মোদী অমিত শাহের রাশ যে দলের ওপর কমছে তা বোঝা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যেই বসুন্ধরাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি মোদী শাহ তাকে নিয়ে আসা হয়েছে সর্বভারতীয় নেতৃত্বে। অন্যদিকে সংগঠনে নিজের লোক ঢুকিয়ে আরএসএস দলের ওপর তার প্রভাব ক্রমশ শক্ত করছে। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। নিট, রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সম্প্রতি বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপ-নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে নীতিন নবীন এবং অমিত শাহের দ্বন্দ প্রকাশ পেয়েছে। নীতিন নবীনের পছন্দের প্রার্থীকে টিকিট দিয়েও প্রার্থী বদল করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জয়ী হয়ে আসা ওই আসনে প্রশান্ত কিশোরের কাছে পরাজিত হয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই দলের অভ্যন্তরে আরও চাপ বেড়েছে মোদী শাহের।
BJP
নীতিন নবীনের কমিটিতে গুরুত্ব স্মৃতি, বসুন্ধরাদের
×
Comments :0