Ujjain Workers dead

খাবারের বর্জ্য পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু ৪ শ্রমিকের, অসুস্থ আরও ২

জাতীয়

খাবারের বর্জ্য জমা রাখার ভূগর্ভস্থ চেম্বার পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হল চার শ্রমিকের। শনিবার গভীর রাতে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর একটি বেসরকারি হোটেলে। মৃতদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও দু’জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উজ্জয়িনীর শ্রী গঙ্গা হোটেলের খাবারের বর্জ্য জমা রাখার জন্য একটি বড় ভূগর্ভস্থ চেম্বার রয়েছে। হোটেলের রান্না ও অন্যান্য কাজ থেকে তৈরি হওয়া খাবারের অবশিষ্টাংশ, জল, সিরাপ, ঘি এবং তেলের বর্জ্য সেখানে জমা করা হয়। শনিবার রাতে সেই চেম্বার পরিষ্কারের কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। সেই সময় আচমকাই এক শ্রমিক পা পিছলে চেম্বারের ভিতরে পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে অন্য শ্রমিকরাও ভিতরে নামেন। কিন্তু চেম্বারের মধ্যে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা সকলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাধব নগর থানার পুলিশ। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে চেম্বার ভাঙার চেষ্টা করা হয়। পরে শ্রমিকদের বের করে আনতে কাটিং মেশিন নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চেম্বারের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দু’জনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ চেষ্টার পর চেম্বারের একটি অংশ ভেঙে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে সিপিআর দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে উজ্জয়িনীর জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, চেম্বারের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া আরও দু’জন গ্যাসের সংস্পর্শে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, হোটেলের কর্তৃপক্ষ চেতন গুপ্তার দাবি, মোটরের সাহায্যে চেম্বার পরিষ্কারের কাজ চলছিল। সেই সময় কোনও কিছু আটকে যাওয়ায় শ্রমিকদের ভিতরে ঢুকতে হয়। একজন পা পিছলে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যরাও চেম্বারের ভিতরে পড়ে যান।
তবে কীভাবে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ওই বিষাক্ত গ্যাসে ভরা চেম্বারের ভিতরে কাজ করতে পাঠানো হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments :0

Login to leave a comment