নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
মণ্ডা মিঠাই
ই বর্জ্য - আমরা কি করতে পারি? : শ্রীজয় বর্ধন
১ নভেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
বিষাক্ত ধোঁয়ায় মোড়া এক ফ্যান্টাস্টিক পৃথিবীর শেষ চিঠি
আজ আমরা যে ফ্যান্টাস্টিক ওয়ার্ল্ডে দাঁড়িয়ে উল্লাস করছি, একটু খেয়াল করে দেখেছেন কি—তার ঠিক নিচেই ফুঁসে উঠছে এক নীরব আগ্নেয়গিরি?
হাতের মুঠোয় থাকা চকচকে স্মার্টফোন, নিত্যনতুন ল্যাপটপ আর আধুনিক গ্যাজেটগুলো যখন আমাদের জীবনকে জাদুকরি গতি দিচ্ছে, তখন এর পেছনে তৈরি হওয়া ই-বর্জ্যের অদৃশ্য পাহাড় আমাদের অজান্তেই গ্রাস করে নিচ্ছে গোটা পৃথিবীকে।
প্রতি বছর কোটি কোটি টন বিষাক্ত ইলেকট্রনিক জঞ্জাল যখন অবহেলায় মাটির গভীরে কিংবা নদীজলে মিশে যায়, তখন সীসা, পারদ আর ক্যাডমিয়ামের মতো ঘাতক রাসায়নিকগুলো নীরবে ধ্বংস করে দেয় আমাদের মাটি, জল আর বাতাস—যা আমাদেরই উত্তরসূরিদের নিঃশ্বাস নেওয়ার একমাত্র সম্বল।
আমরা কি সত্যিই এমন এক ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে কংক্রিটের জঙ্গল আর প্রযুক্তির আলোর নিচে চাপা পড়ে থাকবে কেবলই এক মৃত গ্রহের কঙ্কাল?
আগামী দিনের সেই তথাকথিত 'উন্নত পৃথিবী' কি তবে বিষাক্ত ধোঁয়া আর গলিত প্লাস্টিকের এক অভিশপ্ত শ্মশান হবে?
সিদ্ধান্তটা আজই আমাদের নিতে হবে। কারণ, প্রযুক্তি আমাদের অন্ধ করেনি, অন্ধ করেছি আমরা নিজেরাই।
যদি আজই এই ই-বর্জ্যের সুনামি রোধে কঠোর ও আপসহীন পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না—তারা হয়তো শুধু আমাদের তৈরি করা এই বিষাক্ত জঞ্জালের স্তূপটুকুই উত্তরাধিকার পাবে।
পড়ার পর হয়তো এই লেখাটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য আপনার মনকে নাড়া দিয়ে হারিয়ে যাবে, কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো—
যে আধুনিকতার মোহে আমরা অন্ধ হয়ে যাচ্ছি, তার মূল্য কি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ত দিয়ে চুকাতে হবে?
হাতের পুরোনো ফোনটা বা ল্যাপটপটা ডাস্টবিনে ফেলার আগে আপনার কি একবারও মনে হয় না যে, আপনি আসলে নিজের সন্তানদের ফুসফুসেই বিষ ঢেলে দিচ্ছেন?
যে পৃথিবীটা আমরা বুক ফুলিয়ে রেখে যেতে চেয়েছিলাম, তাকে একটা অভিশপ্ত গ্যাসকক্ষ বানিয়ে যাওয়ার অধিকার আমাদের কে দিল?
একাদশ শ্রেণী, কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ, পূর্ব কল্যাণনগর, খড়দহ, উত্তর ২৪ পরগনা।
Comments :0