editorial

অযোগ্য ধর্মেন্দ্রে অনাস্থা

সম্পাদকীয় বিভাগ

গত কয়েক বছর ধরে নিট পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষাকে ঘিরে চরম অব্যবস্থা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে তাদের নানাভাবে হয়রানি ও ভয় দেখানো চলছে বেশ কয়েকদিন ধরে। আর যারা এই অপদার্থতার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে সেই ছাত্র-যুব আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত কুৎসিতভাবে আক্রমণ করে অভিযুক্ত শিক্ষা মন্ত্রী তাদের সন্ত্রাসবাদীদের বি টিম আখ্যা দিয়েছেন। ঠিকঠাক শিক্ষা দপ্তর পরিচালনায় এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষা গ্রহণের যোগ্যতা নেই সেই মন্ত্রী তিনি নিজের অযোগ্যতা আড়াল করতে ছাত্র-যুবদের সন্ত্রাসবাদী বলে গাল পাড়ছেন। ভারতের শিক্ষা মন্ত্রীর ভাবনা-চিন্তা, বোধবুদ্ধি যে কতটা অন্তসারশূন্য এর থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে সর্বস্তরে যে জোরালো অভিযোগ উঠেছে এবং মানুষ যে সব প্রশ্ন তুলেছেন তার যথাযথ উত্তর দেবার যোগ্যতা ও তার নেই। এক্ষেত্রেও নিজের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা আড়াল করতে গণতান্ত্রিক পথে প্রশ্ন তোলার এবং আন্দোলন করার অধিকারকেই চ্যালেঞ্জ করছে। এটা গণতন্ত্রবিরোধী, সাংবিধানিক অধিকার অস্বীকারকারী স্বৈরাচারী প্রবণতা। একইভাবে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে কার্যত হয়রানি ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য ভয় দেখিয়ে আন্দোলন তীব্রতর হওয়া আটকানো।
নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে গোটা নেট পরীক্ষাটাই বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রীর অযোগ্যতা নিয়ে যখন দেশময় সমালোচনার ঝড় উঠে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ আন্দোলন জোরালো হতে থাকে তখন থেকে শিক্ষা মন্ত্রীর মুখে একটি কথা শোনা যায়নি। প্রকাশ্যেও তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর মুখেও কোনও অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতার কথা শোনা যায়নি। অথচ বহু অর্থ ব্যয় করে বহু দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে শেষে পরীক্ষা হবার পর চরম হতাশা থেকে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাতেও শিক্ষা মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়ে কোনও মর্মবেদনা অনুভূত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি দেশ জোড়া চরম অনাস্থার ফলে সরকার থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে নতুন করে পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিজে কড়া নজরজারি রাখছেন। অর্থাৎ ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলেও তার উপর যে সরকারেরই আস্থা নেই তা প্রধানমন্ত্রীর নজরদারি থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তথাপি তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়নি। কারণ, পদত্যাগ করলে এটাই প্রমাণ হবে বিরোধী তথা জনতার চাপে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছে। সেটা মোদীর ঔদ্ধত্যের ভাবমূর্তিতে প্রবল আঘাত লাগবে। তাই আপাতত অপসারণ না করলেও সরকারই বুঝিয়ে দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর ওপর আস্থা নেই। এরপরও নিজে ঠাঁট বজায় রাখতে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সন্ত্রাসবাদী বলেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment