Sandeshkhali

পরিস্থিতির পরিবর্তনে মানুষের কাছে পৌঁছানোর বার্তা সূর্য মিশ্রের

রাজ্য

প্রবীর দাস: সন্দেশখালি

 

মানুষ বড় শিক্ষক। সেই মানুষের কাছে যেতে হবে। বিনীত ভাবে নম্রতার সাথে তাদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। তাদের মন জয় করতে হবে। মতাদর্শে বলিয়ান হয়ে দেশের একমাত্র শত্রু যে বিজেপি সেই কথা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। কে বিজেপিকে কে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে তা ভুলে যান। কারণ তাদের সিংহভাগ গরীব মানুষ। পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রতিটি বুথে পাড়ায় মহল্লায় প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।

রবিবার সভায় আসা মানুষের উদ্দেশ্যে এমনই আহ্বান রাখেন সিপিআই(এম)'র প্রবীণ নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আমাদের কাজ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করা হয় ন্যাজাটের খান্না মার্কেট পার্শ্ববর্তী হলে। আয়োজক সিপিআই(এম) সন্দেশখালি ১নং এরিয়া কমিটি। শুরুতে ন্যাজাট বটতলা থেকে বাজার পরিক্রমা করে দীর্ঘ মিছিল আসে সভাস্থলে। সভার শুরুতে প্রয়াত কমরেড মৃণাল চক্রবর্তী, কমরেড সুবোধ দে সহ স্থানীয় গণ আন্দোলনের নেতাদের স্মরণ করে সভা শুরু হয়।

সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ নেতা রবীন্দ্রনাথ সরকার। সঙ্গীত পরিবেশন করেন দীনমজুর শ্রীদাম সর্দার। দেশ তথা রাজ্য জুড়ে সঙ্কটময় পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে সন্দেশখালিতে পাট্টা জমি দখল, শ্রমিকদের জীবনজীবিকার সঙ্কট, হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন এবং সর্বপরি এসআইআর-এ সন্দেশখালির বহু মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বাদ দিয়ে সন্দেশখালি দখল করে বিজেপি। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এই আহ্বান রেখে সূর্যকান্ত মিশ্র ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য নিরাপদ সর্দার, এরিয়া কমিটির সম্পাদক রঞ্জিত নাথ। স্বরচিত তিনটি কবিতা সংকলন সূর্যকান্ত মিশ্র ও নিরাপদ সর্দারের হাতে তুলে দেন কবি রবীন্দ্রনাথ সরকার।

সভায় সূর্যকান্ত মিশ্র পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগামী সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কেন্দ্রীয় মূল ১১টি দাবির সাথে স্থানীয় আদায়যোগ্য দাবিকে যুক্ত করে নিবিড় প্রচার আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন। প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া আগামী ২৬ নভেম্বর কৃষক মারা কৃষি বিল, শ্রমিক নিধনকারী ৪টি শ্রমকোড, স্মার্ট মিটার বাতিল সহ বিদ্যুৎ  বেসরকারিকরণ, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে, শূণ্যপদ পূরণ এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা সহ অন্যান্য দাবিতে দেশব্যাপী লড়াই আন্দোলন শুরু হবে। এই রাজ্য তার বাইরে নয়। সন্দেশখালিও তার বাইরে থাকবে না। এই প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, এমন কোন বাড়ি থাকবে না যেখানে আমরা পৌঁছাবো না। গ্রাম শহরের কোনায় কোনায় পৌঁছে যেতে হবে। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি নিন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে সাথী করে নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে মানুষের পদভারে কাঁপিয়ে দিন পশ্চিমবঙ্গকে। দিল্লির বুকে সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চা পরবর্তীতে নাছোড় মনোভাব নিয়ে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি এবং তারপর কলকাতার রাজপথ কাঁপিয়ে দিয়েছে ছাত্রযুবরা। তেভাগার মাটি সন্দেশখালি তার অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে ভাগের রাজনীতিকে পরাস্ত করে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার যাত্রা শুরু হোক আজ থেকে।

সন্দেশখালির মানুষের মন ভালো নেই। অধিকাংশ কৃষক এবার আর চাষ করতে পারলো না আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনায়। কৃষকদের এহেন যন্ত্রণা তুলে ধরে লুট হয়ে যাওয়া পাট্টা জমি উদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে নিরাপদ সর্দার বলেন, জাতপাত, বিভাজনের রাজনীতি এনে বিজেপি মানুষের মনন জগৎ দখল নিয়েছে। জমির আন্দোলন, ভাতের দাবিতে আন্দোলন, তেভাগার কাহিনী সব মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। ৭৭সালের আগে কেমন ছিল সন্দেশখালি? কেন বলবো না। কেন দীর্ঘ ৩৪ বছরের সম্প্রতির পরিবেশ কেন তুলে ধরবো না। সপ্তাহে তিনদিন কাজ পায় সন্দেশখালির মানুষ। চারদিন অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে।

কেন পারছি না? লালঝান্ডার উপর আক্রমণ ছিল। ছিল শোষন। কমরেড হেমন্ত ঘোষাল, ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্য, শরৎ সর্দাররা পেরেছিলেন তা থেকে সন্দেশখালিকে মুক্ত করতে। তাদের দেখানো পথে আমাদেরও পারতে হবে। আর পারতে গেলে মতাদর্শে বলিয়ান হয়ে মানুষের মনন জগৎকে দখল করতে হবে। 

Comments :0

Login to leave a comment