100 DAYS JOB

কলতলার ঝগড়া

সম্পাদকীয়

পঞ্চায়েত নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বিজেপি বনাম তৃণমূলের বাক্‌যুদ্ধ কলতলার ঝগড়ার চেহারা নিচ্ছে। ঝগড়ার আসল কারণ পরিত্যক্ত হয়ে যুক্তিহীন অবান্তর কথা চালাচালিতে মজা দেখার লোকের সংখ্যা বাড়লেও সমস্যার কোনও সমাধান হয় না। সাম্প্রতিককালের খেউড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের পাওনা টাকা না আসা। মাঝখান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজ্যের দরিদ্র সাধারণ মানুষ। এক পক্ষ বলছে টাকা দিচ্ছেন। তাই কাজ করা যাচ্ছে না। অন্যপক্ষ বলছে কাজ হচ্ছে না তাই টাকা বন্ধ।

বর্তমানে গ্রামীণ ভারতে বৃহত্তম সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্প ১০০দিনের কাজ। বামপন্থীদের চাপে ইউপিএ আমলে চালু হয় এই ঐতিহাসিক প্রকল্প। গ্রামীণ কর্মহীনতা হ্রাসে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এই প্রকল্প দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পকে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন গ্রামে গর্ত খোড়ার প্রকল্প। কর্মহীন মানুষকে কাজ দিতে ব্যর্থ মোদীর সরকার আজ সেই প্রকল্পের প্রশংসাই শুধু করছে না অর্থনীতির দুঃসময়ে তাকেই বেশি করে আশ্রয় করতে চাইছে। এই রেগা প্রকল্পের কাজ পশ্চিমবঙ্গে গত ডিসেম্বর থেকে বন্ধ। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। তার আগে যে কাজ হয়েছে তার মজুরির টাকাও পাননি গ্রামের মানুষ। শুধু রেগা নয়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনাসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পও বন্ধ একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে। কেন বন্ধ?
মূল অভিযোগ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয়। কাজ না করে টাকা গায়েব করে দিয়েছে তৃণমূলের নেতারা। গ্রামে গ্রামে এমন চুরি বাংলার মানুষ অতীতে কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেননি। সরেজমিনে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কর্মীরা। পরে কেন্দ্র জানিয়ে দেয় চুরির টাকা উদ্ধার না হলে আর টাকা পাবে না পশ্চিমবঙ্গ। বাধ্য হয়ে মমতা ব্যানার্জি চুরির টাকা উদ্ধারের অভিযান শুরু করেন। কিছু টাকা উদ্ধার হলেও সেটা নিতান্তই কম। এই অবস্থায় মমতা দিল্লি গিয়ে একান্তে দেখা করেন মোদীর সঙ্গে। ফিরে এসে গলার স্বর নিচু হয়ে যায়। টাকার জন্য আর আক্রমণাত্মক কণ্ঠস্বর শোনা যায়নি। এখন বলছেন এবার কি পায়ে ধরব।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এমন ভাষ্য হতে পারে না। প্রাপ্য যদি ন্যায্য হয় কেন্দ্রকে টাকা দিতে হবে। টাকা জনগণের করের। মোদী-শাহদের ব্যক্তিগত নয়। মমতা যদি সৎ ও নির্দোষ হয়ে থাকেন তাহলে তিনি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জনগণকে জানান কোন প্রকল্পে কেন্দ্র এপর্যন্ত কত টাকা দিয়েছে। কোন কাজে সেই টাকা খরচ হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিন। তেমনি মোদীরাও শ্বেতপত্র প্রকাশ করে বলুন কত টাকা দিয়েছেন আর কত টাকার হিসাব পাননি। জনগণ তার যাচাই করবেন। যদি এটা সত্য হয় যে তৃণমূল চুরি করেনি তদ্‌সত্ত্বে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করেছে তাহলে বামপন্থী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে হকের টাকা আদায় করবে। আর যদি দেখা যায় চুরি করে সব ফাঁক করা হয়েছে তাহলে জনগণের আদালতে তাদের দাঁড় করানো হবে চুরি আড়াল করতে খেউড়ের আকড়া বানানো মানুষ মেনে নেবেন না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই এর একটা হেস্তনেস্ত চাই। কিন্তু মুখে লম্বাচওড়া ভাষণ দিলেও মমতা ব্যানার্জির হিম্মত নেই সত্যের মুখোমুখি হওয়ার।
 

0 Comments

Login to leave a comment