জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)-এর সন্দেহভাজন সদস্য মহম্মদ হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জালে তার সঙ্গী অর্পিতা সরকার।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ঝাড়খন্ডের সাহিবগঞ্জের বারহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে হামিম মণ্ডলের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। দু'জনের মধ্যে হওয়া একাধিক চ্যাটও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের একটি আবাসনের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে মহম্মদ হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, সে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। অভিযোগ, ওই চক্রের লক্ষ্য ছিল রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, নতুন সদস্য নিয়োগ এবং সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপের ভিত্তি তৈরি করা।
এসটিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম মণ্ডল পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কাজে অর্পিতা সরকারকে ব্যবহার করত।
এক তদন্তকারী আধিকারিকের দাবি, অর্পিতা একটি হানি-ট্র্যাপ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এই চক্রের মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হতো।
ওই আধিকারিক বলেন, ‘ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত মহিলার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং তিনি কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’
গ্রেপ্তারের পর অর্পিতাকে পূর্ব বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অর্পিতার মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্য কোনও সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার পরিকল্পনায় ব্যবহার করার উদ্দেশ্য ছিল কি না।
পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ হামিম মণ্ডলের পৈতৃক বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর থানার দিঘনগর গ্রামে। তার বাবা মনিরুদ্দিন ১৯৯৮ সাল থেকে কর্মসূত্রে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করছেন। সম্প্রতি হামিম পরিবার-সহ বর্ধমান শহরের ওই ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠে, সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এসটিএফ জানিয়েছে, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং অন্যান্য নথি বিশ্লেষণের পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চিত্র স্পষ্ট হবে।
Crime
জইশ-ই-মহম্মদ সন্দেহভাজন জঙ্গি-কাণ্ডে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার মহিলা
×
Comments :0