স্পেশাল ট্রাইবুনালের মাধ্যমে ভোটারদের দাবির নিষ্পত্তি করে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে ২হাজার ৩৮০টাকা কুইন্টাল দরে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারকে ধান কেনা সহ বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার কোচবিহার ২নং ব্লকের পুন্ডিবাড়ি এলাকায় মিছিল, ২নং ব্লক দপ্তর চত্বরে বিক্ষোভ ও কোচবিহার ২নং ব্লকের বিডিওকে ডেপুটেশন দিল সারা ভারত কৃষক সভা কোচবিহার ২নং ব্লক কমিটি।
একই দাবিকে সামনে রেখে এদিন তুফানগঞ্জ শহরে মিছিল এবং তুফানগঞ্জ ১নং ব্লকে ডেপুটেশন কর্মসূচিতে শামিল হয় সারা ভারত কৃষক সভা।
এদিন কোচবিহার ২নং ব্লকে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার গণআন্দোলনের নেতা অনন্ত রায় সহ কৃষক নেতা চানমোহন রায়, ধনেশ্বর রায়, কুলীন চন্দ্র রায়, আইনুল হোসেন, সফিজ আহমেদ, প্রতিমা সরকার প্রমুখ।
এদিন তুফানগঞ্জে এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন সারা ভারত কৃষক সভা কোচবিহার জেলা সম্পাদক আকীক হাসান, কৃষক নেতা মহম্মদ আলি, পূণ্যেশ্বর অধিকারী প্রমুখ।
১৪০০টাকা কুইন্টাল দরে সরকারি ভাবে আলু কেনা, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকরা যাতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও বীজ পায় সেজন্য সরকারি ভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, কৃষক স্বার্থ রক্ষায় কৃষি সমবায় সমিতিগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবিও এদিন উত্থাপন করা হয় এই বিডিওর কাছে বলে জানান কৃষক নেতারা।
সহায়ক মূল্যে সরকারি ভাবে ধান কেনার দাবি সহ আরও একাধিক দাবিতে ১৮জুন থেকে ২৭জুন পর্যন্ত কোচবিহার জেলার ১২টি ব্লকে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে বিক্ষোভ ডেপুটেশন ও জুলাই মাসের ৭তারিখ সংশ্লিষ্ট দাবি সমূহের ভিত্তিতে কোচবিহার শহরে মিছিল ও কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ ডেপুটেশন কর্মসূচিতে শামিল হবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সারা ভারত কৃষক সভা। তারই অঙ্গ হিসেবে এদিনের এই কর্মসূচি বলে জানান কৃষক নেতারা।
এদিন কৃষক নেতারা বলেন, "কোচবিহার জেলায় গত বছর রবি মরশুমে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬হাজার মেট্রিক টন। এবারে এই লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে মাত্র ২হাজার মেট্রিক টন! রবি মরশুমে এবারেই প্রথম বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু করেছে রাজ্যে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে ধান কেনার তালিকায় নেই কোচবিহার, জলপাইগুড়ি জেলার নাম। ফলে এই দুই জেলায় ধান কেনার প্রস্তুতিও নেই খাদ্য দপ্তরের। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কোচবিহার জেলার হাটে হাটে অভাবী বিক্রি করছেন কৃষকেরা। ফড়েরা কুইন্টাল প্রতি সর্বোচ্চ ১হাজার ২৫০টাকার বেশি দাম দিচ্ছে না। এরকম চললে চরম বিপন্নতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে গোটা জেলা সহ কোচবিহার ২নং ব্লক ও তুফানগঞ্জ ১নং ব্লকের কৃষকদেরও।"
অন্যদিকে, এসআইআর-এ ট্রাইব্যুনালে নাম থাকা নাগরিকেরা রেশন, ভাতা সহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে ই এই সরকারের সুযোগ পাওয়া উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে সুকৌশলে। এই নাগরিকদের অধিকাংশই কৃষক তথা কৃষিজীবি পরিবারের সদস্য, সদস্যা। তাই তাদের মত বৈধ ভোটারদের অবিলম্বে ভোটার তালিকাভুক্ত করার দাবিতেও এদিন সোচ্চার হয়েছেন তারা বলেও জানান কৃষক নেতারা।
Comments :0