MUKTADHARA | STORY | SWADHINATAR ALOYA | RAHUL CHATTAPADHAYA | 16 AUGUST 2026 | 4th YEAR

মুক্তধারা | গল্প | স্বাধীনতার আলোয় | রাহুল চট্টোপাধ্যায় | ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MUKTADHARA  STORY  SWADHINATAR ALOYA  RAHUL CHATTAPADHAYA  16 AUGUST 2026  4th YEAR

মুক্তধারা

গল্প 

স্বাধীনতার আলোয়

রাহুল চট্টোপাধ্যায় 

১৬ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

 

স্বাধীনতা দিবসের আগের রাত। চারিদিক আলোয় সেজে উঠছে।বিমল বাবু তাঁর বারান্দায় বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
তখন বাংলাদেশ থেকে সবে এসে ঠাঁই হয়েছে শিয়ালদা স্টেশনে। বাবা মায়ের সঙ্গে। চারিদিকটা তাকিয়ে কিছুই চোখে পড়ে না কেবল অসহায় মানুষ ছাড়া। কি খাবে কিভাবে বাঁচবে এই ভাবনা আর কান্না সঙ্গী করে জীবনযাপন। সে সব দিনগুলো মনে পড়ে আজ।
স্থায়ী ঠিকানা তো অনেক পরে। কলোনী গড়ে ওঠার সংগ্ৰাম তো ছিল ,তারপর মিছিল মিটিং,মারখাওয়া, রক্তপাত সব মিলিয়ে সে ছিল এর করুণ অথচ রক্তিম কাহিনী। বিমল বাবু সে দিনগুলোর কথাও ভাবছেন। এক অদ্ভুত সময়, একদিকে চরম অনিশ্চয়তা অন্যদিকে অদৃশ্য স্বপ্ন-বেঁচে থাকার, বেঁচে ওঠার।
তারপর যা হোক করে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে তো নেওয়া গেল। কিন্তু বাঁচবে কিভাবে মানুষ। আরও এক লড়াইয়ের দিন।  সে সব দিনগুলোতেও লাঠি গুলির সামনাসামনি মানুষ। দাবিতে শ্লোগানে মুখরিত কলকাতা। বিমল বাবু সে মিছিলেও হেঁটেছেন, লাঠি খেয়েছেন।
আজ স্বাধীনতার আলোকসজ্জায় সে সব দিনগুলোই ফিরে ফিরে আসে। স্মৃতির রক্তিম পটে আজকের এ আলোকসজ্জা ফিকে মনে হয়, মনে হয় স্বাধীনতা কার? কোথায় সে বাধাহীন জীবন, কোথায় দারিদ্রহীন ভারতবর্ষ! বিমল বাবু বেতের চেয়ার ছেড়ে বারান্দার রেলিং ধরে ধরে হেঁটে চলেন ঘরের দিকে। 
বাবাকে হেঁটে আসতে দেখে সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে রমা-' কি হয়েছে বাবা,এত তাড়াতাড়ি ঘরের দিকে? তুমি তো অনেকক্ষণ বারান্দায় বসো।'
-'না,রে মা,আজ ভাল্ লাগছে না।এতো উৎসবের আলো আমার মনে লাগে না।ভেতরটায় অনেক বড়ো বড়ো দাগ রে মা।'
রমা বাবার পাশে পাশে হাঁটতে থাকে, ভাবতে থাকে বর্তমান সময়ের কথা, মনে হয় তার বাবা ঠিকই বলছে, সবকিছু পাল্টানো দরকার।

 

Comments :0

Login to leave a comment