তৃণমূলের কোন গোষ্ঠী ‘প্রকৃত’ তা লোকসভার অধ্যক্ষ ঠিক করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনই একমাত্র তা ঠিক করতে পারে।
রবিবার দিল্লিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠকের আগে এই মত জানালেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচারিয়া।
লোকসভার সচিব পদে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন আচারিয়া। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেও মানা হয়। সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেছেন, ‘‘সুভাষ দেশাই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছিলেন ছিলেন ‘প্রকৃত’ গোষ্ঠী নিয়ে দলে দু’পক্ষে বিবাদ দেখা দিলে তখন কেবল অধ্যক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তা হয়নি।’’
এদিকে রবিবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সাংসদরা। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে দিল্লিতে কাকলি ঘোষদস্তিদার দাবি করেছেন যে বিক্ষুব্ধ সাংসদের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২২।
দিল্লিতে অপর বিক্ষুব্ধ সাংসদ মালা রায় বলেছেন যে বঙ্গভবনে বিকেল চারটেয় বৈঠক আছে। সেখান থেকে পরবর্তী পরিকল্পনা নিশ্চিত হবে।
এদিকে বিক্ষুব্ধদের দাবি, সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ‘প্রকৃত’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হবে। তৃণমূলের জন্য বরাদ্দ আসনের থেকে আলাদা করে কক্ষের ভেতর বসতে দেওয়ার আবেদন জানাবেন তাঁরা।
এর আগে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে যোগ দেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি। দলের অপর সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব এবং পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা।
বিভিন্ন বৈঠকে বিক্ষুব্ধদের মিলিত হতে দেখা গেলেও সেই সংখ্যা কখনও ১৯ ছাড়ায়নি বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে হলে দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা দলেরই লোকসভা সাংসদদের মধ্যে থাকতে হবে। ফলে রাতের দিকে ঠিক কতজন সাংসদকে একসঙ্গে বঙ্গভবনে দেখা যাবে তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে সুভাষ দেশাই মামলা হিসেবে পরিচিত শিবসেনার কর্তৃত্ব নিয়ে উদ্ধব থ্যাকারে এবং একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের আইনি লড়াইয়ের ঘটনাটি।
আচারিয়া বলেছেন, ‘‘আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে অধ্যক্ষ স্বীকৃতি না দিলে লোকসভায় আলাদা আসন বরাদ্দ করা যায় না। এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দাবি জানাতে হবে। বিধানসভা এবং লোকসভায় তাদের পক্ষে সমর্থনের নিরিখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।’’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ফল বের হওয়ার এক মাসেরও আগে তৃণমূলে প্রথম ভাঙন দেখা দেয় বিধানসভায়। এর মধ্যেই ৫৮ বিক্ষুব্ধ বিধায়কের চিঠির লিরিখে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী থেকে বিধানসভার বিরোধী দলেনাকে বেছেছেন অধ্যক্ষ। তবে বহিষ্কৃত নেতাকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলে ব্যাখ্যা চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
TMC Rebel
বিক্ষুব্ধ সাংসদ ২২, দাবি কাকলির, কমিশনকে নির্ধারক বলছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ
বিক্ষুব্ধের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি কাকলী ঘোষ দস্তিদারের।
×
Comments :0