AIDWA RALLY KOLKATA

৫ অক্টোবর দিল্লিতে ঝড় তোলার আহ্বান মহিলা সমাবেশে

রাজ্য

শুক্রবার রানি রাসমণি রোডে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সমাবেশের একাংশ।

সৌরভ গোস্বামী

‘‘রোজগার না থাকলে, কাজ না থাকলে ঘরে চুলা জ্বলবে না। মূল্যবৃদ্ধি আকাঁশ ছুঁয়েছে। মানুষের পাতে খাওয়ার নেই। সরকারি কাজে পড়ে রয়েছে অসংখ্য শূন্যপদ। সমানাধিকারের লড়াইয়ের সঙ্গেই জীবনমানের দাবিতে সংগ্রাম চালাবে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। দিল্লিতে ৫ অক্টোবর সমবেত হয়ে সেই লড়াইকেই জোরদার করবেন সারা দেশের মহিলারা।’’

শুক্রবার কলকাতায় রানি রাসমণি রোডে এই মর্মে বার্তা দিয়েছেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম ধাওলে। এদিন সভাপতিত্ব করেছেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি জাহানারা খান। বক্তব্য রেখেছেন রাজ্য সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ। সর্বভারতীয় স্তরে সংগঠনের নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং সর্বভারতীয় সভাপতি পিকে শ্রীমতী।

শ্রীমতী বলেছেন, ‘‘স্বাধীনতার পর ৭৬ বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু নারী পুরুষের সমানাধিকার হয়নি। সেই অভিমুখে সংগ্রাম জারি রেখেছে মহিলা সমিতি। বাংলার লড়াইকে অভিনন্দন। পঞ্চায়েতে যেভাবে সংগ্রাম চালিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা, একদিকে বিজেপি’র বিরুদ্ধে অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, সারা দেশে তা নজির।’

লড়াইয়ের অভিমুখ ব্যাখ্যা করে শ্রীমতী বলেছেন, ‘‘হিন্দুরাষ্ট্র সমানাধিকারের কথা বলে না। বরং অর্জিত অধিকার কেড়ে নেয়। নরেন্দ্র মোদী দেশে এবং এ রাজ্যে মমতা ব্যানার্জি, কাজের ব্যবস্থা করছেন না। কাজ কেড়ে নিচ্ছেন। সেই দাবিতেও লড়াই করছে সংগঠন।’’ 

ধাওলে বলেছেন, ‘‘সরকার যারই হোক, দেশ সবার। দেশ বিক্রি করছে বিজেপি। তার বিরুদ্ধেই ৫ অক্টোবর সমাবেশ দিল্লিতে। দেশ বিক্রি করার অধিকার কারও নেই। সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে জনস্রোত আছড়ে পড়বে দিল্লিতে।’’ 

কনীনিকা ঘোষ বলেছেন, ‘‘পঞ্চায়েতে আমাদের মহিলারা ঘর ছাড়া থেকেছেন। কিন্তু অধিকার কেড়ে নেওয়ার লড়াই থেকে তাঁদের হটানো যায়নি। রাজ্যের মানুষ দেখেছেন মহিলাদের লড়াই।’’ তিনি মনে করিয়েছেন যে সরকারি প্রকল্প চলে মানুষের দেওয়া করের টাকায়। তিনি বলেছেন, ‘‘ঘুম থেকে উঠে আমরা যা ব্যবহার করি প্রত্যেক ক্ষেত্রে আমাদের কর দিতে হয়। সেই পয়সায় চলে প্রকল্প। কারও দয়া নয়, সরকারের প্রকল্পে উপভোক্তা হওয়ার অধিকার আমাদের সবার রয়েছে।’’ 

পূর্ব মেদিনীপুরের আরজুনা বিবির লড়াইয়ে মনে করিয়েছেন তিনি। কনীনিকা ঘোষ বলেছেন, ‘‘আবাস যোজনার ঘর চাইতে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন আরজুনা বিবি। তাঁকে জেলে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূলের দলদাস পুলশি। অকথ্য নির্যাতন করেছে। কিন্তু আরজুনা বিবি আমাদের পতাকা ছেড়ে চলে যাননি। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন এই লড়াইয়ের সঙ্গে রয়েছেন।’’ 

পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের আক্রমণে শহীদ পরিবার এদিন আমন্ত্রিত ছিল সমাবেশে। আলাদা মঞ্চে আসীন ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিবাদন জানিয়েছে সমাবেশ। পঞ্চায়েতে প্রার্থী হয়ে অত্যাচারের শিকার মহিলারা জানিয়েছেন তাঁদের কথা। যেমন বারাবনীতে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় আক্রমণ আর প্রতিরোধের কথা জানিয়েছেন সেখানকার মহিলা নেত্রী। তিনি জানিয়েছেন আক্রান্তদেরই ধরে নিয়েছে পুলিশ। জেলে পাঠিয়েছে তাঁদের। আবার ভাঙড়ের মামনি মণ্ডল জানিয়েছেন আক্রমণ প্রতিরোধ করেও জয়ী হয়েছেন কিভাবে। এই লড়াইকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘প্রতিরোধের সমাবেশ’। 

বৃন্দা কারাত লড়াইয়ের মুখদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘‘বাংলায় দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে প্রগতিশীল শক্তিকে। একদিকে বিজেপি অন্যদিকে তৃণমূল। একদিকে মোদীর বুলডোজার আরেকদিকে মমতার বুলডোজার। দেশের অন্য কোথাও একসঙ্গে দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে না। সাহসের সঙ্গে যে লড়াই আপনারা করেছেন তার জন্য কুর্ণিশ।’’ ৫ অক্টোবর দিল্লির সমাবেশকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনিও।     

Comments :0

Login to leave a comment