ভোটের ফল প্রকাশ হবার দিনই মহকুমা হাসপাতালের রোগীর পরিবারের সদস্যদের রাত্রি যাপনের জন্য স্বল্পভাড়ায় ডরমেটরি আবাসনে বিজেপি ঝান্ডা লাগিয়েছে।তারপর কেটে গেছে একমাস। ঝান্ডা সরে নি,খোলে নি রাত্রিবাস আবাসন। মহকুমা শাসক থেকে হাসপাতালের নতুন সুপার সবাই চুপ।
অথচ হাসপাতালের সূত্রই বলছে এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী থাকে ইনডোরে! তাদের পরিবারের সদস্যরা কার্যত খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।
সরকার বদলাতেই হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির চেয়ারম্যান বদলেছে। চেয়ার থেকে "তৃণমূল আউট, বিজেপি ইন"। প্রথম মিটিংয়ে অবশ্য রোগী কল্যানের ভার যাদের কাঁধে তারা রাত্রিবাস কেন্দ্র খুলে দেওয়ার কথা ভাবার সময়ই পান নি!
মহকুমা হাসপাতালের সুপারের কাছে রাত্রিবাসের আবাসন বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন যে এজেন্সীকে ওই আবাসনের লীজ দেওয়া হয়েছিল তার লীজের মেয়াদ ফুরিয়েছে অনেক দিন আগেই। সদ্য অপসারিত সুপারের ঘনিষ্ট হবার সুবাদেই আগের এজেন্সীই কাজ করে যাচ্ছিল। সেটা জানতে পেরেই কেউ বা কারা আবাসন বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন করে লীজ টেন্ডার না হলে রাত্রবাসের আবাসন খোলা যাচ্ছে না! আর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে তিন থেকে ছয়মাস সময় লাগবে। তার আগেই-টেন্ডার করা যায় কিনা চেষ্টা করছি। পরবর্তী রোগী কল্যান সমিতির মিটিংয়ে সমস্যাটি তুলবো।
প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের মত আবশ্যিক পরিষেবা ক্ষেত্রে জরুরী আপৎকালীন ব্যবস্থা নেবার প্রয়োজনীতার কথা কেন ভাবছে না রোগী কল্যান সমিতি বা মহকুমা প্রশাসন? লীজ টেন্ডার না হওয়া পর্যন্ত খোলা আকাশের নীচে রাত কাটানো ছাড়া অন্য পথ খোলা নেই মহকুমা হাসপাতালের রোগীর পরিবারের সদস্যদের।অমানবিকতার এই ছবি কবে বদলাবে সেটাই এখন দেখার।
স্বল্পমূল্যের রাত্রিবাস আবাসনের মতই বন্ধ পড়ে আছে মহকুমা হাসপাতাল চত্বরের অভ্যন্তরের ক্যান্টিনও! এটি অবশ্য কেউ বন্ধ করে নি। এটিও চালাতো সদ্য অপসারিত সুপারের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তি। তিনিই লীজ নিয়ে অন্য আরেক ব্যক্তিকে সাব- লীজে ক্যান্টিন চালাতে দিয়েছিলেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনিও উধাও।ফলে সাব লীজে ক্যান্টিন যিনি চালাতেন তিনি আর খুলছেন না ক্যান্টিন। রোগী পরিবারের সদস্যরা রোগীর জন্য সামান্য গরম জল, চা বিস্কুটের জন্য ছুটছেন হাসপাতালের বাইরের দোকানে। এই অচলাবস্থা দ্রুত না কাটলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসা গ্রামের সাধারন মানুষেরা।
BJP
ডরমেটরি আবাসনে বিজেপি'র ঝান্ডা, খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে রোগীর পারিবার
×
Comments :0