মধুসূদন চ্যাটার্জি: ইন্দাস
করিষুন্ডা গ্রামের দারোগাপাড়ার পশ্চিম প্রান্তে ধানখেতের পাশে একমাত্র ঘরটি শেখ মহম্মদ মোফিকের। সেই বাড়িতে পৌঁছনোর রাস্তাই এখন কাদা ও জলে পিচ্ছিল। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের হামলার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোফিকের। ঘটনার কয়েক দিন পর বুধবার সেখানে পৌঁছল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল। তবে বৃষ্টির জল ও কাদায় ঘটনাস্থলের সম্ভাব্য প্রমাণ কতটা অক্ষত রয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মৃতের ছেলে আবদুল হাপিজ।
এদিন আবদুলের বাড়িতে যান বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী, সারা ভারত কৃষক সভার বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক যদুনাথ রায় সহ সংগঠনের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন এবিপিটিএ ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংঘের প্রতিনিধিরাও। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইন্দাস থানায় এদিন ডাকা হয় আবদুল ও তাঁর মা হাসিনা বিবিকে। আবদুলের দাবি, তদন্তে সহযোগিতার জন্যই তাঁদের ডাকা হয়েছিল। বাড়ির নিরাপত্তায় পুলিশ ক্যাম্পও বসানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বাবার হত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত, প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’’
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, রক্তচাপজনিত অসুস্থতার পর বর্ধমান হাসপাতালে মোফিকের মৃত্যু হয়েছে। সেই দাবি অস্বীকার করে আবদুলের অভিযোগ, ১৩ আগস্ট রাতে বিজেপি কর্মীদের হামলার পরই তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইন্দাস হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। পরদিন হুমকির কারণে তাঁকে শিয়ালদহে পাঠিয়ে দেন বাবা। ১৫ আগস্ট ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে বর্ধমানে নিয়ে যাওয়ার পথেও তাঁদের গাড়ি থামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ আবদুলের। এরপর বর্ধমান হাসপাতালে মোফিকের মৃত্যু হয়।
আবদুলের বোন তানিয়া খাতুন জানান, সরকারি আবাসন না পেয়ে ঋণ করে বাড়ি করেছিলেন তাঁদের বাবা। বর্ধমানে পাউরুটি বিক্রি করেই সংসার চলত। তাঁর কথায়, ‘‘সব কিছুই শেষ হয়ে গেল।’’
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজন গ্রেপ্তার রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এত গুরুতর ঘটনার পরও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া একবারও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
Comments :0