একদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একাধিক সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে যোগ দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তাঁর সফরকে ঘিরে জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা লক্ষ করা যায়। এদিন সকালে বাগডোগরা থেকে হেলিকপ্টারে জলপাইগুড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নেমে সরাসরি জেলাশাসকের দফতরে পৌঁছান। সেখানে জেলা পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে সিকিমে টানেল ধসের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবার গুলির হাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিয়ে সমবেদনা জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য,গত ২০ জুলাই সিকিমের নামচিতে এনএইচপিসি-র নির্মাণাধীন টানেলে ধস নামে। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ডুয়ার্স অঞ্চলের ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। যা গোটা রাজ্যকে শোকস্তব্ধ করে তোলে। এদিন জলপাইগুড়ির কর্মসূচি সেরে মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শৈব তীর্থ ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে পৌঁছান। মন্দির কমিটির সম্পাদক গিরিন্দ্র নাথ দেবের হাত ধরে তিনি মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং গর্ভগৃহে গিয়ে পুজো দেন। মন্দির চত্বরে পৌঁছানোর পর ট্রাস্টি বোর্ডের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পুজো দেওয়ার সময় হেলিকপ্টার থেকে মন্দির চত্বরে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর পুজো দেওয়াকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মন্দির কমিটি ও ভক্তরা।
পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন,‘‘জল্পেশ মন্দির সহ রাজ্যের বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্রের জন্য বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মন্দিরের জন্য যা যা প্রয়োজন সবই হবে, আমরা টিমও পাঠাবো। ভক্তরা দেখতে পাবে বর্তমান সরকার এই জল্পেশ মন্দিরের জন্য কী কী করছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মন্দির কমিটির সম্পাদক গিরিন্দ্র নাথ দেব বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী জল্পেশ মন্দিরকে ঢেলে সাজাবেন বলেছেন, আমরা ভীষণ খুশি।’’
Sikkim Tunnel Tragedy
সিকিমে টানেল ধসে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, আর্থিক সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর
×
Comments :0