Party Congress: One Nation One Election

‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির বিরোধিতায় একজোট হওয়ার আহ্বান পার্টি কংগ্রেসে

জাতীয়

‘এক দেশ এক ভোট’ সংবিধানের দু’টি মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে লঙ্ঘন করছে। তার একটি হলো গণতন্ত্র। অপরটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো। 
নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির বিরোধিতায় গৃহীত প্রস্তাবে একথা বলেছে সিপিআই(এম) ২৪ তম পার্টি কংগ্রেস। প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন পলিট ব্যুরোর সদস্য অশোক ধাওয়ালে এবং সমর্থন করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমরা রাম। 
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সব রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন, যারা গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে রক্ষার পক্ষে তাদের সকলকে একজোটে ‘এক দেশ এক ভোট’ প্রক্রিয়ার জন্য সাংবিধানিক সংশোধনের চেষ্টাকে রুখতে হবে। 
সিপিআই(এম)’র আহ্বান, গণতন্ত্র বিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী এই প্রচেষ্টাকে রুখতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। 
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কেশবানন্দ ভারতী মামলায় বলেছিল যে সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে পরিবর্তন করা যায় না। সংসদের সেই অধিকার নেই। ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতিতে গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০-তে বলে দিয়েছিলেন যে ‘এক দেশ এক ভোট নীতি বিতর্কের বিষয় নয়, ভারতের জরুরি প্রয়োজনের বিষয়। 
প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে এক দেশ এক ভোট নীতিতে বেশ কিছু বিধানসভার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হবে। লোকসভার সঙ্গে একই পর্বে ভোট করার জন্য এই সব বিধানসভা পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না। এই নীতি অনুযায়ী কোনও সরকার মেয়াদের মাঝে গরিষ্ঠতা হারালে ভোট হবে। কিন্তু, পাঁচ বছরের বাকি সময়টুকু হবে সেই বিধানসভার মেয়াদ। 
উল্লেখ্য, সংবিধানে ভোটে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর বলা রয়েছে। এক্ষেত্রে তা ভাঙা হচ্ছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৮৩ ধারা (আইনসভার মেয়াদ সংক্রান্ত), ৮৫ ধারা (লোকসভা ভেঙে দেওয়া), ১৭২ ধারা (বিধানসভা ভেঙে দেওয়া), ৩৫৬ ধারা (সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রয়োগে ব্যর্থতা) সংক্রান্ত ধারাগুলি সংশোধন করতে হবে এই নীতি চালু করতে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সংশোধন করতে হবে। 
এই সংশোধনের সর্বাত্মক বিরোধিতার ডাক দিয়েছে পার্টি কংগ্রেস।

Comments :0

Login to leave a comment