Cooch Behar

অবহেলিত কোচবিহার রাজবাড়ি পার্কের ঝুলন্ত সেতু, দাবি উঠছে সংস্কারের

জেলা

অমিত কুমার দেব: কোচবিহার 
২০১১ সালের পর থেকে তৎকালীন রাজ্য সরকারের সীমাহীন উদাসীনতায় চরম দৈন্যদশা কোচবিহারের অন্যতম হেরিটেজ স্থাপত্য কোচবিহার রাজবাড়ির পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ি উদ্যানের। এই উদ্যানটি সংস্কারের কোন উদ্যোগই নেওয়া হয়নি আদৌ কি রাজ্যের নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে এই উদ্যানের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার? উত্তর খুঁজছেন কোচবিহারের মানুষ।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোচবিহার শহরের কেশব রোডে কোচবিহার রাজবাড়ির ঠিক পাশে এই পার্কটি এই মুহূর্তে রূপ নিয়েছে ভুতুড়ে জঙ্গলের। পার্কে না আছে ফুলের বাগান, না আছে ফোয়ারা, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা প্যাডেল বোটগুলির মধ্যে এই মুহূর্তে চাকতি বোট চালু থাকলেও বিনোদনমূলক বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে অকেজো অবস্থায়। রীতিমত অসামাজিক কার্যকলাপের উৎকৃষ্ট স্থান হয়ে উঠেছে এই পার্কটি।
কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির পাশাপাশি এর সংলগ্ন এই পার্কটি এক সময় হয়ে উঠেছিল পর্যটকদের কাছে একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান। ২০০০সাল নাগাদ এই পার্কটিকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল রাজ্য সরকার। কোচবিহার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থানুকূল্যে এই পার্কটির সৌন্দর্য্যায়নে হাত দেয় বন বিভাগ। লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ফোয়ারা, অ্যাকোরিয়ামের পাশাপাশি পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য পার্কটির মধ্যে একাধিক ছোট ঘরে রংবেরংয়ের নানারকম পাখি, খরগোশ, বিদেশি মুরগি, অজগর সহ বিভিন্ন প্রাণী রাখা ছিল এই পার্কে। এছাড়াও পার্কের ঝিলের স্বচ্ছ জলে বোটিংয়ের জন্য প্রায় ১৪টি প্যাডেল বোট রাখা হয়েছিল। পার্কের ঝিলের ওপরে সুদৃশ্য দুটি অত্যাধুনিক ঝুলন্ত সেতু বানানো হয়। এছাড়া পার্কের ভেতরে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুদৃশ্য বসার জায়গা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ফুলের সমাহারে দৃষ্টিনন্দন ফুল ফুলবাগান গড়ে তোলা হয়েছিল এই পার্কটিকে ঘিরে। সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০০সালের ২৫নভেম্বর নব কলেবরে সজ্জিত এই রাজবাড়ি পার্কের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
তখন থেকেই এই পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাতে কোচবিহার জেলা শাসককে সভাপতি এবং ডিস্ট্রিক্ট ফরেস্ট অফিসারকে সম্পাদক করে বেশ কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে ইকো হেরিটেজ সোসাইটি গঠন করা হয়। পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োগ করা হয় প্রায় ৩৩জন অস্থায়ী কর্মী। বেশ কিছু বছর সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছিল এই পার্কটির এবং এই পার্কের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ক্রমশ বাড়ছিল পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু হঠাৎ কোন এক অজ্ঞাত কারণে এই পার্কটি সরকার তথা জেলা প্রশাসনের অবহেলার শিকার হয়ে পড়ে। ২০১১ সালের পর থেকে কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে এই রাজবাড়ি পার্ক। 
বর্তমানে বেহাল দশা এই পার্কের। নষ্ট হয়ে গেছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড, আর ঝিলে চলে না প্যাডেল বোট। এই ঝিল এখন পানাপুকুরের রূপ নিয়েছে। ঝিলে থাকা বোটগুলিও সব প্রায় নষ্ট হযে উলটে পড়ে রয়েছে। সেগুলিতে গজিয়েছে জঙ্গল। পাখি, অজগর সাপ, আর কিছুই নেই এই পার্কে। সর্বোপরি আজ আর ফুল ফোটে না এই উদ্যানে। গোটা উদ্যান চত্বর ছেয়ে গেছে জঙ্গলে। পার্কের ভেতরে থাকা অত্যাধুনিক ফোয়ারাটি নষ্ট হয়ে তাতে গাছ ও জঙ্গল গজিয়ে গিয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগেও মিউজিকের তালে তালে এই ফোয়ারার রংবেরংয়ে জলরাশি দেখতে ভিড় জমাতেন পর্যটকরা। পার্কে পানীয় জলের জন্য সুদৃশ্য একটি ট্যাংক করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে জল নেই। বর্তমানে ঝিলের টলমলে জল প্রায় পুরোপুরি পানাপুকুরে পরিণত হয়েছে। পার্কের অভ্যন্তরে থাকা দুটি ঝুলন্ত সেতু দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। আগাছা জঙ্গল সেতু দুটিকে ঘিরে ধরেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে পড়েছে, যে কোনও মুহূর্তে সেতু দুটি ভেঙে পড়তে পারে। তাই সেতু দুটির গেটে তালা লাগানো হয়েছে। রীতিমত অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হয়ে উঠেছে এই রাজবাড়ি পার্ক। অবিলম্বে এই পার্কটি সংস্কার করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Comments :0

Login to leave a comment