শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সামনে এসএফআই রাজ্য কমিটির তরফে এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। পাশাপাশি এদিনই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের সামনে থেকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ পর্যন্ত একটি মিছিল করে এসএফআই কলকাতা জেলা কমিটি। মিছিল থেকে অপরাধের সিন্ডিকেট চালানো নেতাদের গ্রেফতারি, পূর্ববর্তী ইউনিয়নের যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের অডিট জনসমক্ষে পেশ করা সহ অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, এসএফআই কলকাতা জেলা সভাপতি হাসিব হোসেন ও সম্পাদক শুভদীপ ব্যানার্জি সহ নেতৃবৃন্দ।
মিছিল করে পৌঁছানোর পর সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করতে আসেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রিন্সিপাল ও। সেইসময় কলেজ পরীক্ষা চলছে জানানো হলে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে এসএফআই।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দেবাঞ্জন দে বলেন, "রাজ্যের কলেজের মধ্যে যেভাবে ক্রাইম সিন্ডিকেট, এডমিশন সিন্ডিকেট, মনজিৎ মডেল ১৫ বছর ধরে পরিচালিত হয়েছে সেই একইরকম সিন্ডিকেট এই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের মধ্যেও চলেছে। এই কলেজের ছাত্র সংসদের এক সময় স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য ছেলেমেয়েদের উদ্বুদ্ধ করতো, গত ১৫ বছরে সেই ছাত্র সংসদের ঘর ক্রাইম সিন্ডিকেট সহ নানা বিকৃত মানসিকতার সিন্ডিকেটে পরিণত করা হয়েছে। যারা পরিণত করেছে সেই মূল দুটো নাম হলো দেবাশীষ ব্যানার্জি এবং তার ছেলে শিবাশীষ ব্যানার্জি। এই দুজন মিলে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ক্লাসরুম, কমন রুম সর্বত্র দাপাদাপি করে বেড়িয়েছে। গোটা কলেজ চত্বর জুড়ে একটা ত্রাসের আবহ রয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে এসএফআইয়ের হয়ে কথা বলতে গেলে ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করা হতো। ছাত্রীদের নিগ্রহ করা হয়েছে। আগে যারা তৃণমূল ছিল তারাই এখন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছে তারা সকলে মিলে এই গোটা শিয়ালদহ চত্বর ঘিরে একটা নেক্সাস চালাতো। কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হতো। বিরুদ্ধ মতামত পোষণ করলে ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের অ্যাডমিট কার্ড, আটকে দেয়া হতো রেজিস্ট্রেশন কিন্তু প্রিন্সিপাল ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকতেন।"
সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীনই সেখানে স্লোগানিং করে এভিবিপি। পাল্টা স্লোগানিং করে এসএফআই-ও।
Comments :0