সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের ইউনিফর্মের কাপড় পড়ে আছে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন পৌরসভা ও বিডিও অফিসে। শিক্ষাবর্ষের ৫ মাস অতিক্রান্ত তবুও কোথাও পোশাক তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল,আবার কোথাও পোশাক তৈরির কাজ শুরুই হয়নি। বড় অনিয়মের অভিযোগ ব্লক ও পৌরসভাগুলির বিরুদ্ধে। কবে পড়ুয়ারা পোশাক পাবে কেউ জানে না।
শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই স্কুল পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম পাওয়ার কথা। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেও জেলার কোনও স্কুলেই পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছায়নি ইউনিফর্ম। ফলে গ্রামের স্কুলগুলিতে পড়ুয়ারা বাড়ির পোশাকেই স্কুলে আসছে। কোচবিহার জেলার প্রায় তিন লক্ষ পড়ুয়ার ইউনিফর্ম সঙ্কট কবে মিটবে তার উত্তর জানা নেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকদেরও।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এসএফআই। এসএফআই’র দাবি, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ইউনিফর্ম দেবার কথা ছিল। কার বা কাদের গাফিলতিতে শিক্ষাবর্ষের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও পড়ুয়ারা ইউনিফর্ম পেল না তাদের চিহ্নিত করুক জেলা প্রশাসন।
এবিটিএ’র জেলা নেতা ধজেন বর্মণ বলেন, ইউনিফর্ম পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া যায়নি। ফলে যে যার মতো পোশাকে স্কুলে এলেও আমাদের কিছু করার নেই। এবিপিটিএ’র জেলা সভাপতি চন্দ্রকুমার বর্মণ বলেন, স্কুলে স্কুলে অভিভাবকেরা ইউনিফর্ম কবে মিলবে জিজ্ঞেস করলেও কোনও উত্তর দেওয়া যাচ্ছে না।
জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরুতে ইউনিফর্ম দেবার জন্য আগের বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে কাপড় চলে আসে জেলা গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে। এরপর সেই কাপড় ব্লক, পৌরসভায় পাঠানো হয়। সেখানে বাছাই করা স্বনির্ভর গোষ্ঠী স্কুলে স্কুলে পড়ুয়াদের পোশাকের মাপ নিয়ে ইউনিফর্ম তৈরি করে। এবারের ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। জেলা গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে কাপড় এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তারপর সেই কাপড় ব্লক ও পৌরসভাতে পাঠানোও হয়। কিন্তু তারপর অজানা কারণে ইউনিফর্ম তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলছেন না।
তবে রাজনৈতিক পালা বদলের আঁচ পেয়েই আগাম কাজ বন্ধ করেছিল ব্লক ও পৌরসভার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি? এদিকে জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পৌরসভাগুলিতে ইউনিফর্ম তৈরি করার কাজ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেবার অভিযোগ ছিল অনেক আগে থেকেই। রাজনৈতিক পালা বদলের পর সেই সব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাতব্বরেরা এখন বেপাত্তা। আধিকারিকেরা ও এ বিষয়ে কেউই স্পষ্ট কিছু বলতে রাজি নন প্রকাশ্যে। তবে এটুকু স্পষ্ট ইউনিফর্ম আপাতত পড়ুয়াদের পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
মাথাভাঙা পৌরসভার ১৩ টি স্কুলের ৩৪০০ পড়ুয়াকে পোশাক দেবার জন্য প্রায় ২২ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে বরাত দেওয়া হয়েছিল। এবছরের পোশাকের কাপড় পৌরসভায় আসার পর কাজও শুরু হয়েছিল। তারপর কাজ বন্ধ হয়ে যায় ভোটের কিছু দিন আগেই। এই মুহূর্তে কিছু কাপড় রয়েছে গোষ্ঠীগুলির বাড়িতে বাড়িতে। আর কিছু কাপড় পড়ে আছে পৌরসভার ঘরে। এখন শিক্ষক- অভিভাবক সকলেই চাইছেন, ইউনিফর্ম সঠিক সময়ে দেওয়া হোক।
Comments :0