জানা অজানা
নতুনপাতা
মহান যুগের অমর ভূগর্ভস্থ বন
তপন কুমার বৈরাগ্য
১৩ মার্চ ২০২৬, বর্ষ ৩
পৃথিবীতে যেমন অনেক আশ্চর্য প্রাণী আছে তেমনি আছে আশ্চর্য সব উদ্ভিদ।পৃথিবীর প্রায় সব উদ্ভিদই মাটির উপরে জন্মায়।কিন্তু কিছু উদ্ভিদ আছে যারা মাটির নীচে জন্মায়।
এই ধরনের একটা উদ্ভিদের নাম পারিনারী ক্যাপেনসিস।একে বাংলাতে বালির আপেল বলে।দক্ষিণ আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলে দুই তিন ফুট বালির নীচে এই গাছ জন্মায়।
এছাড়া মোজাম্বিক ,নামিবিয়া ,জিম্বাবুয়ে প্রভৃতি দেশের বালির নীচেও এই গাছ পাওয়া যায়।এই গাছ প্রায় একফুটের কাছাকাছি লম্বা হয়।এই গাছের পাতাগুলো দেখতে অপূর্ব।
পাতাগুলো উপবৃত্তাকার।উপরের অংশ সবুজ এবং নীচের কিছু অংশ সাদা। মাটির নীচে জন্মালেও এরা সপুষ্পক উদ্ভিদ। সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে এই গাছের ফুল ফোটে।ফুলগুলো ধবধবে সাদা।সুন্দর ঘ্রাণও আছে। এই গাছগুলো সেই অঞ্চলে জন্মায় যেখানে উষ্ণ আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল ।এই গাছের সবকিছুই ম্যালেরিয়ার মহৌষধ।এই গাছ বহুদিন বাঁচে।এই গাছকে অমর উদ্ভিদও বলা হয়।গাছের শিকর যতোদিন থাকবে ততোদিন এই গাছের মৃত্যু নেই।বহুকাল আগে এই উদ্ভিদের সৃষ্টি।যখন পৃথিবীতে প্রথম জীবের সৃষ্টি হয়।যে যুগটাকে আমরা মহান বলি।তাইতো এর নাম হয়েছে মহান যুগের অমর ভূগর্ভস্থ বন।একজায়গায় বহু সংখ্যক এই উদ্ভিদ একসঙ্গে জন্মায় বলে একে বন বলে। এই গাছ সম্পর্কে একটা সত্য কাহিনি আছে।সাভানা অঞ্চলে চাগ্গা নামে এক উপজাতি বাস করে। আগে এই জাতির লোক ম্যালেরিয়ার জন্য মারা যেতো। জমি চষতে গিয়ে এরা বালির আপেলের গাছের সন্ধান পায়।এই গাছের পাতা ফুলের রস পান করে তারা ম্যালেরিয়া মুক্ত হয়।এই গাছকে এরা দেবতা জ্ঞানে পুজো করে।সত্যিই ম্যালেরিয়ার জন্য এই গাছ ধ্বন্বন্তরী।
Comments :0