রেলদপ্তরের সদিচ্ছায় শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন আদৌও কি তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে ? প্রশ্ন উঠেছে শহরের বিভিন্ন মহলে। প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীন শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের সংষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০২৫সালে রেল কর্তৃপক্ষ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের সংষ্কারের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলো। সেই কাজই শুরু হয়েছে। বিগত দিনগুলিতে প্রকৃত রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ধুকছিলো শিলিগুড়ি শহরের ঐতিহাসিক স্টেশন পুরোনো টাউন স্টেশন। ভেঙে পড়া পরিকাঠামো নিয়ে শিলিগুড়ির বুকে দাঁড়িয়ে স্টেশনটি। শিলিগুড়ি পুরোনো টাউন স্টেশনকে পুনরুজ্জীবিত করতে রেলদপ্তরের কোনরকম উদ্যোগ এতোদিন চোখে পড়েনি।
রক্ষণাবেক্ষন ও নজরদারির অভাবে জবরদখলকারীদের দখলে ছিলো স্টেশনের একাংশ। স্টেশনের আশপাশে বস্তি গড়ে উঠেছে। দিন রাত স্টেশনে চড়ে বেড়াচ্ছে গরু, ছাগল। শুধু তাই নয়, একেবারে একটা নোংরা পরিবেশে স্টেশন এলাকা জুড়ে শুয়োরের দল আস্তানা গেড়েছিলো স্টেশন চত্বরে। প্রকাশ্যেই প্ল্যাটফর্মের উপর দিয়ে বাইক, সাইকেল, ভ্যান চলেছে। চারিদিকে আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রেললাইনের ওপরেই বস্তা, প্লাস্টিক বিছিয়ে দিয়ে জিনিসপত্র রোদে শুকনো করতে দেওয়া হয়। আবার বাঁশ গেড়ে টানানো দড়িতে ঝুলছে জামা কাপড়। আলু পেঁয়াজের বস্তা পড়ে রয়েছে। স্টেশন চত্বর যেন ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থল। প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের বসার জায়গায় অনেকে বসে তাস ছুড়ছে, আড্ডা দিচ্ছে। এমনই ছিলো শতাব্দী প্রাচীন শিলিগুড়ি টাউন স্টশনের রোজের চেহারা। অভিযোগ, সন্ধ্যা নামতেই অসামাজিক কাজকর্ম শুরু হয়ে যায় স্টেশন চত্বরে। যার দরুন ঐতিহাসিক টাউন স্টেশনের গৌরব নষ্ট হতে বসেছিলো।
শতবর্ষ পুরোনো শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন অতীত শিলিগুড়ি স্টেশন নামে পরিচিত ছিলো। ঐতিহাসিক এই স্টেশনে একসময় গান্ধীজি থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, বাঘাযতীন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পুন্যলতা চক্রবর্তী, আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু, অরবিন্দ ঘোষ, সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, শিবনাথ শাস্ত্রী, শরৎচন্দ্র বসু নেমেছেন। একটা সময় এই স্টেশন থেকেই দার্জিলিঙের পথে টয়ট্রেন ছুটতো। আর এই স্টেশনকে ঘিরে তৎকালীন শহরের উত্তরোত্তর বিকাশ ঘটেছিলো। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল, শিলিগুড়ি মুখ্য ডাকঘর, শিলিগুড়ি কোর্ট, ট্রেজারি বিল্ডিং, স্কুল, কলেজ সেই সময়কালেই গড়ে উঠেছিলো শিলিগুড়ি স্টেশনের চারপাশ জুড়েই। এছাড়াও গড়ে উঠেছিলো শিলিগুড়ি আদালতের ঠিক উল্টো দিকে চারটি ঘরের সুদৃশ ডাকবাংলো। সেই ডাকবাংলো এখন অদৃশ্য হয়ে গেছে। বাকি সব কিছুর অস্তিত্ব থাকলেও যাকে কেন্দ্র করে এই শিলিগুড়ির শহরের বিকাশ ঘটেছিলো সেই শিলিগুড়ির পুরোনো টাউন স্টেশনের জেল্লা একেবারেই ফিকে হয়ে গিয়েছিলো। কাঠামোটুকুই পড়ে ছিলো।
পুরোনো স্টেশনের গৌরবময় ইতিহাস শুধুমাত্র বইয়ের পাতাতেই লিপিবদ্ধ রয়ে গেছে। পুরাতন এই শিলিগুড়ি স্টেশনকে ঘিরে স্মৃতি যেন এখনও জ্বলজ্বল করছে শহরের প্রবীণদের চোখে। শহরের প্রবীণদের কথায়, হেরিটেজ ঘোষণাই সার। হেরিটেজ রক্ষার কোন আন্তরিক প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়নি বিগত দিনগুলিতে। শিলিগুড়ি পুরোনো টাউন স্টেশন নতুন রূপে সেজে ওঠার অপেক্ষায় শহরবাসীরা।
Siliguri Town Railway Station
ধ্বংসের মুখে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন, সেজে ওঠার অপেক্ষায় শহরবাসী
×
Comments :0