Supreme Court SIR

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ৩৭ লক্ষের বেশি আপিল বিচারাধীন, সুপ্রিম কোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

জাতীয়

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ৩৭ লক্ষেরও বেশি আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় একথা জানিয়েছে শুক্রবার।
কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আপিল দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১,০২,২৩১টি। এখনও বিচারাধীন রয়েছে ৩৭,১৮,৪৫২টি আপিল।
তবে যাদের নাম বাদ গেছে তাদের এবং যাদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সেই দুইয়ের আলাদা হিসেব হলফনামায় দেয়নি কমিশন।
গত ১৭ জুলাই, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চে এরাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। ওই আবেদনে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া ভোটারদের দাবি-আপত্তি সংক্রান্ত বিধানসভা-ভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বেঞ্চ কমিশনের জবাব তলব করে।
আবেদনকারী জানিয়েছিলেন, এসআইআর পর্বে পশ্চিমবঙ্গে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দাবি-আপত্তি পর্বে অন্তর্ভুক্তির জন্য ৯.৬৪ লক্ষ আবেদন (ফর্ম ৬ এবং ৬এ) এবং নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৯৯ হাজারের বেশি আবেদন (ফর্ম ৭) জমা পড়লেও, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মাত্র ১.৮২ লক্ষ নাম যুক্ত হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এবং নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেয়। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে, এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কমিশনকে বিচারাধীন আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সুগম করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কতগুলি অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন, তাও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।

আদালতে জমা দেওয়া কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪.১৩ লক্ষ ফর্ম ৬-এর আবেদন জমা পড়েছে। ফর্ম ৬ হল ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বিধিবদ্ধ আবেদন। এর মধ্যে প্রথমবার নিবন্ধনের আবেদন এবং খসড়া সংশোধনের সময় যাদের নাম বাদ গিয়েছিল, তাদের আবেদনও রয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল শীর্ষ আদালত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিকে নির্দেশ দেয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে যারা জরুরি শুনানির আবেদন করবেন, তাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনানি করতে হবে।
প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়ায় পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রতিবেশী ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ৭০০ বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রাক্তন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিদের নেতৃত্বে আপিল নিষ্পত্তির জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন।

Comments :0

Login to leave a comment