বিদ্যুৎ বন্টন নিগমের পাওয়ার গ্রিড নির্মাণে জমির প্রয়োজন। সেই জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে ছিল তৃণমূল পরিচালিত হাজরাহাট গ্রাম পঞ্চায়েত! কিন্তু জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ভরতুকির টাকা আজও পাননি জমিদাতারা। অভিযোগ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান ও দলের নেতারা! এই অভিযোগেই শনিবার অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক জমিদাতা। জানা গেছে, লুটের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। জমিদাতাদের সাথে প্রতারণায় জড়িয়ে আছে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরও!
মাথাভাঙা মহকুমার পূর্ব বালাসি এলাকায় তৈরি হওয়া পাওয়ার গ্রিডের জন্য জমি দিয়ে যারা প্রতারিত হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারাও। অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য ১৩ বছর আগে জমি দিয়েছিলেন ১১৩ জন। জমিদাতার মধ্যে মাত্র ১১ জন সরকার নির্ধারিত জমির মূল্য পেয়েছেন। বাকি ১০২ জন আজও বঞ্চিত!
পূর্ব বালাসিতে ২০১৩ সালে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় এলাকার বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ, তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বিশ্বজিৎ রায় ও নজরুল হক। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও জেলা পরিষদের সদস্য সহ একাধিক জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে জমি জরিপের কাজ শেষ হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ বিধায়ক ও তৃণমূল নেতারা, জমিদাতাদের বুঝিয়েছিল জমি দিলে এলাকার উন্নতি হবে। সেই সময় সরকার প্রতি একর জমির জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিল। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫০০ বিঘা জমি দিয়েছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
জমিদাতাদের মধ্যে ছিলেন ৫৪ জন পাট্টাপ্রাপক, ২৫ জন জোত জমির মালিক এবং বাকি জমিদাতারা খাস জমির দখলদার। তৃণমূল নেতাদের কথায় জমি দিয়েছিল জমিদাতারা।
জমি অধিগ্রহণে সহায়তা করেছিল তৃণমুল পরিচালিত হাজরাহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েত।
পরবর্তীতে জমিদাতাদের জমির ওপরই পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প নির্মিত হয়।
প্রতারিতদের দাবি, পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহু জমির পাট্টা ও ভূমি রেকর্ডে নাম পরিবর্তন করা হয়। অভিযোগ প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শুক্লা রায় বিশ্বাস ও তাঁর স্বামী শঙ্কর রায় বিশ্বাস এবং বর্তমান গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রুপা রায় বিশ্বাস এবং তাঁর স্বামী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা সর্বানন্দ রায়বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বজায় রেখেছেন।
অভিযোগ, প্রকৃত জমিদাতাদের নাম বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম জমির নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিরাই সরকারি ভরতুকি ও ক্ষতিপূরণের টাকা পান। বিক্ষোভকারীদের একাংশের বক্তব্য, একই পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদে থাকায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের "পারিবারিক রাজনৈতিক সিন্ডিকেট" গড়ে উঠেছিল।
শনিবার পূর্ব বালাসি, উত্তর দইভাঙ্গি, পশ্চিম বালাসি-সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক'শ মানুষ একত্রিত হয়ে বর্তমান তৃণমূল প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, প্রকৃত প্রাপকদের বকেয়া ভরতুকির টাকা দ্রুত প্রদান করতে হবে এবং অভিযোগে নাম জড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের বিরুদ্ধেও জমির মালিকানা বদলে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠলো।
প্রতারিত জমিদাতা শিবেন দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো এই এলাকায়। অস্ত্র ও বন্দুক দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বসবাসকারী ও অধিকারভুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং জমির মূল্য অন্য ব্যক্তির অ্যা কাউন্টে ঢুকে গেছে!
Mathabhanga
ভরতুকির টাকা না পেয়ে জমিদাতাদের বিক্ষোভ
জমিদাতাদের বিক্ষোভ।
×
Comments :0