মুক্তধারা
ভ্রমণ
বাঙালির ইউরোপনামা
সুপ্রতিক বণিক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
এলো শীতের রুক্ষ শুষ্ক দিন
প্রিয় ত্বকের যত্ন নিতে...
না না না কোন সম্পর্ক নেই সাবান এর সাথে এইবারের পর্বের, কিন্ত শীতের সাথে তো আছে বটেই।কারণ ডিসেম্বর এর শীতে চললাম আমরা পূর্ব ইউরোপ এ।ভারতীয় সময় ৩ টে ২৫ এ আমাদের ফ্লাইট এর কলকাতা থেকে ছাড়বে ।
কলকাতা থেকে ফ্লাইট যাবে কাতার ,তখনও কাতার এযুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ছিলো না ।সেটা হয়েছিল ফিরে আসার বেশ কিছু দিন পরে ।মনের ভেতর বিদেশ ভ্রমণের আগে যে যে অদ্ভুত আনন্দ সেটা প্রায় শব্দে প্রকাশ অসম্ভব । কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে একেবারেই ইমিগ্রেশন ,সিকিউরিটি চেকিং সেরে আমরা ঢুকে গেলাম ।
এখানে বলে রাখা ভালো যে এই প্রসেস টা সব ক্ষেত্রে এক ই হয় না ,কারণ অন্তর্দেশীয় বিমানযাত্রায় ইমিগ্রেশন এর দরকার হয় না এটা মোটামুটি সবাই জানি ।তাই পুরো পদ্ধতিটাই এত ভজকট দশ ধাপ পরিশোধন প্রক্রিয়ার সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে না।কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে একটাই বিমান-বিরতি এবং আমাদের মালপত্র একে দৌড়ে আমাদের শেষ গন্তব্য ভিয়েনাতে গিয়ে পৌঁছবে ,তাই আমাদের ইমিগ্রেশন ও প্রথমেই হয়ে গিয়েছিল ।বলতে চাইলাম যে আমরা প্রথম বারেই দেশের বাইরে মানে কাতার গিয়ে থামবো।
ইমিগ্রেশন এর পদ্ধতিটা বিভিন্ন বিমানবন্দর এ বিভিন্ন ভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে ।কলকাতা বিমান বন্দরেও আমাদের কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হলো ।উদাহরণ স্বরূপ আমার ব্যাগে ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেট বলতে শুধু ডিএসএলআর ছিলো, তাও সব শুদ্ধ খুলে ব্যাগ উপুড় করে আমাকে দেখাতে হয়েছিল! এমন কি চার্জার ,পাওয়ার ব্যাংক সব -ব্যাগ এর শেষ কোণ থেকে বের করে দেখানোর পর ওনারা সন্তুষ্ট হলেন।
এবং আমার তাতে কোনও কষ্ট ,অস্বস্তি কিছু হলেও আমি খুশি যে আমাদের শহরে, আমাদের দেশ এ এত কঠিন ভাবে পরীক্ষা করে তবেই বোর্ডিং এ যেতে অনুমতি দেন ।
ঘটনাচক্রে ,এই সময় জনৈক বিদেশীকে আটক করা হল কারণ আমার সামনেই তার ব্যাগ থেকেই এই জওয়ানরাই পেয়েছিলেন একজোড়া স্যাটেলাইট ফোন যা সাধারন মানুষের ব্যাবহার এর জন্য আমাদের দেশে নিষিদ্ধ। উদ্দেশ্য, সব সতর্কতা আর খুঁতখুঁতে পরীক্ষার পটভূমিতে এইরকম কিছু ঘটনা থাকে যা সবসময় আমাদের অবগত থাকে না।
যাই হোক,ফিরে আসি মূল স্রোতে ,
কলকাতা থেকে ফ্লাইট এ চড়ার আগে আমার মনে হলো আমার সহধর্মীনীর একটা ওই গলাবন্ধ জাতীয় বালিশ দরকার হবে অতো লম্বা যাত্রার আগে । এই বিষয়টা উল্লেখ করলাম কারণ কমবেশি সবার কাছেই আজকাল একটা ছোট ওইধরণের বালিশ পাবেন,রাখতে পারেন যেকোনো যাত্রার জন্য ।সিট্ এ বসে খুব টাইট অবস্থাতেও একদিকে ঘাড় হেলিয়ে আপনি একটু হলেও ঘুমিয়ে নিতে পারবেন।শুল্ক-মুক্ত দোকান থেকে সেটাই কিনলাম সাথে আরও কিছু লোভনীয় “দ্রব্য” আমার চোখ এড়ায়নি।
তারপর মনে হলো, হাওয়াই-আড্ডা তে এসে ক্রেডিট কার্ড এর দৌলতে বিনামূল্যে পেট পুজো যে করা যায় সেটার একটা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা খুব ই জরুরি।
যদ্ ভাবনা , তদ্ করিস্যামি ।
এবং মন খুশি হয়ে সেবন এবং পান করার পর ,সবশেষে মিষ্টি উপভোগ করে চললাম বোর্ডিং গেট এর দিকে ।
চলবে
Comments :0