AIDWA

মারিয়াম ধাওয়ালের আহ্বান: হতাশা নয়, লড়াই চালিয়েই মজবুত করতে হবে সংগঠন

জাতীয়

সঞ্চারী চট্টোপাধ্যায়: হায়দরাবাদ
হতাশ হলে চলবে না, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, একমাত্র আমরা, বামপন্থীরাই মহিলাদের শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলি। মহিলাদের ভালো থাকা নিয়ে ভাবি। সাম্প্রদায়িক বিভাজন, টাকার খেলার মধ্যেও আমাদের সংগঠনের বিস্তার ঘটছে। এভাবেই সংগঠনকে আরও মজবুত করে তুলতে হবে’, প্রতিনিধিদের আলোচনার পর জবাবি ভাষণে মঙ্গলবার ভবিষ্যতের দিশা তুলে ধরেছেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা মারিয়ম ধাওয়ালে। তাঁর পেশ করা দুই খসড়া প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৫ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৭৬ জন প্রতিনিধি। আলোচনায় উঠে এসেছে মহিলাদের জীবনের বহুবিধ সমস্যার কথা। গার্হস্থ্য হিংসা, পরিবারের সম্মান রক্ষার অজুহাতে খুন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, অ্যাসিড হামলা, কাজ না থাকা, ঋণের বোঝা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন মহিলারা।   
আলোচনা শেষে মারিয়ম বলেন, ‘টাকাপয়সা দিয়ে শুধু নির্বাচনেই বিজেপি ফায়দা তোলে না। মহিলাদের টাকা দিয়ে মিছিলে নিয়ে যায়। একহাতে টাকা ধরিয়ে দেয়, অন্যহাতে ঝান্ডা। আসলে নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছু হটতেই বিজেপি এই কৌশল নেয়। কিন্তু এই বিশ্বাসও রাখতে হবে যে, মহিলারা আজীবন এই কুপ্রভাবের মধ্যে থাকবেন না। মারাত্মক দারিদ্রের কারণেই তাঁদের অর্থ দিয়ে টেনে নেওয়া সহজ হয়। তাই তাঁদের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে এবং বোঝাতে হবে।’ ধর্মীয় বিশ্বাসে যেন কোনোভাবেই আঘাত না করে ফেলা হয় সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মহিলারা বরাবরই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বেশি মাত্রায় যান। এখন সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। আমাদের উচিত নয় এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে রেগে কথা বলা বা তাঁদের উপেক্ষা করা কিংবা বিরক্ত হওয়া। ধর্মীয় বিশ্বাসে আমরা আঘাত করতে পারি না। আবার ঠিক তেমনই এই প্রবণতাকে বৈধতা দেওয়াও উচিত নয়। আমাদের সহনশীলভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে। বেশি করে কথা বলতে হবে। কথায় কথায় বোঝাতে হবে মেয়েদের প্রকৃত অবস্থা। এভাবেই কুসংস্কার থেকে তাঁদের বের করে আনতে হবে। কেউ যদি বোরখা পরে আমাদের সঙ্গে প্রতিবাদে শামিল হন, তাহলে বুঝতে হবে যে সেটা বিশাল বড় ব্যাপার। বাড়ির মানুষজনের সঙ্গে, রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই তিনি বা তাঁরা এসেছেন। তাঁর মনোবল আরও বাড়াতে হবে।’ সংগ্রামই যে একমাত্র পথ, তা বুঝিয়ে মারিয়ম বলেছেন, ‘একেবারে তৃণমূল স্তর থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। লড়াই করলে যে ফল পাওয়া যায়, তার উদাহরণ কর্নাটক, তামিলনাডু, ওডিশা। এই তিন রাজ্যে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার প্রকোপ নিয়ে লাগাতার আন্দোলন হয়েছে। কর্নাটক, তামিলনাডুর সরকার আইন আনতে বাধ্য হয়েছে, যা আমাদের আন্দোলনের ফল। ওডিশায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা আমাদের মেয়েদের ডেকে পাঠান, আলোচনা করেন কীভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের আন্দোলনের জয়। বিজেপি রাজত্বে পরিবারের সম্মান রক্ষার অজুহাতে খুন অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। মহিলা সমিতিই প্রথম মহিলা সংগঠন, ২০০৫ সালে এর বিরুদ্ধে খসড়া বিল তৈরি করেছিল। ২০১০ সালে তা আপডেটও করা হয়েছে। সেই খসড়া বিল নিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারকে চাপ দিতে হবে। যাতে এই ধাঁচে তারা আইন তৈরি করতে বাধ্য হয়।’ ধারাবাহিক আন্দোলন বজায় রেখে নবীন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে আরও বেশি করে জুড়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। সমস্ত রাজ্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের লড়াই-সংগ্রামের জন্য। তবে তৃণমূল এবং বিজেপি’র যৌথ আক্রমণের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য আলাদাভাবে বাহবা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গকে।
প্রসঙ্গত, এদিন সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছে দুটি রিপোর্টই। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ে ১৯টি প্রস্তাব পেশ হয়েছে। মাইক্রোফিনান্স সহ চারটি বই প্রকাশ হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment