কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারিভাবে নথিভুক্ত মৃতের সংখ্যার বাইরেও সম্পত্তি নষ্ট হওয়া, আহতের সংখ্যা, পার্শ্ববর্তী অংশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সহ এমন বহু বিষয়ই থেকে যায় যার সঠিক তথ্য কোথাওই নথিভুক্ত থাকে না।
শুধুমাত্র এই একটি ঘটনা নয়। গত ১৬ মাসে হোটেল, গুদাম, কারখানা, হাসপাতাল সহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। প্রায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন দেড় বছরের কম সময়ে।
নিউ মার্কেটে মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগে একই ঘটনা দেখা গিয়েছিল তারাপীঠে। দু’দিন আগে সেখানেও মারা যান হোটেলের ৯ আবাসিক।
বুধবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই অগ্নিকাণ্ডের আগে, মে মাসে তিলজলার একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজন মারা যান। বেশ কয়েকজন আহতও হন। এর আগে, জানুয়ারি মাসে আনন্দপুরের একটি গুদাম আগুনে ভস্মীভূত হয়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, ওই গুদামটিতে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ছাড়পত্র ছিল না। তৈরি খাবার সরবরাহের জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ডের ওই গুদামে মারা যান শ্রমিকরা। শ্রমিক সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থাই ছিল না। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এত বড় মাপের অগ্নিকাণ্ড প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫-র অক্টোবর মাসে টেরিটি বাজার এলাকায় আগুন লাগে। এজরা স্ট্রিটের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ১৫টি দমকলের ইঞ্জিন কাজে লাগাতে হয়। ওই ঘটনায় ব্যাপক বাণিজ্যিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
ওই বছর অক্টোবর মাসেই, রাজাবাজারের একটি পরিত্যক্ত কারখানা চত্বরে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় দমকলের ছয়টি ইঞ্জিন মাইল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তার আগে, ওই বছরেরই এপ্রিল মাসে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, একটি বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা। সে সময়ে ভয়াবহ এই ঘটনায় দুই শিশুসহ প্রায় ১৪ জন মারা যান। সেইসঙ্গে, প্রায় ৪০ জন আহত হন। জানা গিয়েছিল , বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন। পাশাপাশি, ওই একই মাসে পাথুরিয়াঘাটায় ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়।
তার ও কিছু আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে নারকেলডাঙা এলাকায় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই ঘটনায় একজন প্রাণ হারান।
এই ধরণের ঘটনাগুলির কারণ হিসাবে বেশিভাগ সময়ই সামনে এসেছে পুরানো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন, ঘিঞ্জি জনবসতির মতো বিষয়গুলি। যা কলকাতার দীর্ঘদিনের অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত দুর্বলতাগুলোকে বারবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে,পরিবর্তনের বয়স বেশিদিন না হলেও বর্তমান কিংবা পূর্ববর্তী সরকারের কাউকেই অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
Kolkata fires over 16 months
কলকাতায় ১৬ মাসে অগ্নিকাণ্ডে মৃত প্রায় ৫০, নজরদারি কোথায়!
(বাঁদিকে) আনন্দপুরে অগ্নিদগ্ধ গোডাউন। (ডানে) নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল।
×
Comments :0