নেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট। নেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। তার মধ্যে অব্যাহতি নিয়েছেন দুই বিচারপতি। গত একশো দিনে মাত্র ৩০ হাজার আবেদনের শুনানি হয়েছে। এসআইআর ট্রাইবুনালে জমা প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
কেবল ভোট নয়, সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তা হওয়ার প্রশ্নেও বিবেচ্য হচ্ছে এসআইআর। কলকাতার একটি দৈনিকের প্রাক্তন সম্পাদকের পাসপোর্ট পুনর্বীকরণের আবেদন খারিজ হয়েছে এসআইআর-এ নাম না থাকার যুক্তিতে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এসআইআর-এ বাদ নামের আবেদন বিবেচনার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট গড়েছিল ১৯টি এসআইআর ট্রাইবুনাল। হিসেব বলছে, গত ১০০ দিনে মোটের ১ শতাংশেরও কম আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। দিনে এখন ৩০-৩৫টি’র মতো আবেদনের নিষ্পত্তি হচ্ছে। যে গতিতে কাজ হচ্ছে তাতে সব আবেদনের নিষ্পত্তিতে ২৫ বছর লেগে যেতে পারে।
কলকাতা হাইকোর্ট এসআইআর শুনানির ১৯টি ট্রাইবুনাল গড়ার পর কাজ শুরু হয় জোকায় জলসম্পদ ভবন থেকে। হাইকোর্ট সূত্রের খবর, জোকায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে ট্রাইবুনাল চালানোর মতো পরিকাঠামোর গুরুতর অভাব রয়েছে।
তার ওপর ব্যক্তিগত কারণে ট্রাইবুনাল থেকে সরে যান কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। তাঁর ট্রাইবুনালে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। অব্যাহতি নিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত বাগও। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার আবেদনের বিচার করছিলেন। আবার দু’টি ট্রাইবুনালের দুই প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং সম্প্রীতি চ্যাটার্জিকে রাজ্য সরকার সদ্য নিয়োগ করেছে নারী সুরক্ষা বিষয়ক কমিশনের মতো দায়িত্বে।
জোকায় জলসম্পদ ভবন হিসেবে পরিচিত এই ভবনে ট্রাইবুনালে খোঁজ নিতে এসে বহু মানুষ ঘুরে যাচ্ছেন। ট্রাইবুনালের কোনও ওয়েবসাইট নেই। ফলে রায় জানতে পারছেন একমাত্র বিচারপ্রার্থী। কোন আইনি কারণে আবেদন গৃহীত হলো বা হলো না তার নথি হাতে মিলছে না।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায়। অনেক ক্ষেত্রেই কমিশনের পক্ষে কেউ হাজির না থাকায় শুনানি না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলছেন, ট্রাইবুনালে বিচারালয়ের মতো কাজ হয়। তার জন্য পরিকাঠামো থাকা অত্যন্ত জরুরি। জোকায় তা নেই। যেভাবে শ্লথগতিতে কাজ হচ্ছে এখনই সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ জরুরি। না হলে এত বড় প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে তা একেবারেই অনিশ্চিত থাকবে।
SIR TRIBUNAL
নেই পরিকাঠামো, দিনে ৩০-৩৫টি আবেদনের শুনানি এসআইআর ট্রাইবুনালে
×
Comments :0