মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
বাংলাদেশে ‘হাম’ রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে দেশ জুড়ে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৯ দিনে ১১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি মতে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পাটি প্রেস নোটে জানিয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে হাম ও এর জটিলতায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫ হাজার ৭৯২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। রাজশাহীতে ৮ জন, খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে সর্দি, কাশি, তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া ও জল পড়া, এবং গালের ভেতরে সাদা দাগ। তারপর লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা প্রথমে মুখ ও গলায় শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এই র্যায়শ মিলিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে শরীরে দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। সেই সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়, অনেক পরিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করে এবং স্বাস্থ্যখাতের অগ্রাধিকারও পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা বর্তমানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল হামের প্রদুর্ভাবে আক্রান্ত হয়ে শত শিশুর মৃত্যুসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন ‘‘সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের গাফিলতির দরুন হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশু মৃত্যুবরণ করছে যা এক প্রকার কাঠামোগত হত্যা। এই হত্যাকান্ডের দায় গত ইউনুস সরকারসহ বর্তমান সরকার এড়াতে পারে না। সরকারের টিকাদান কর্মসূচি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অগ্রাধিকার কর্মসূচির একটি কাজ যা নিয়মিত ভাবে করা উচিত। কিন্তু গত ২ বছর ইউনুস সরকারের পক্ষে এই কর্মসূচি বন্ধ রেখে দেওয়া হয়েছিলো যার ফলাফল হচ্ছে দেশে শিশু মৃত্যু সহ লক্ষ লক্ষ শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা মহামারিতে রূপ নিয়েছে। বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন সেই সংগে নিউমোনিয়ার মত কঠিন ছোয়াছে রোগও ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার অবিলম্বে টাস্ক ফোর্স গঠন করে হামের মহামারি প্রতিরোধে টিকা কর্মসূচি চালু করুক। সকল সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে জরুরী স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প চালু করার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে যে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সেটাই প্রাথমিক কারণ বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থা জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে, ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম।
Measles Cases Rise In Bangladesh
বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে হাম, টাস্ক ফোর্স গঠনের দাবি ওয়ার্কার্স পার্টির
×
Comments :0