COM MRIDUL DEY & MADAN GHOSH

প্রয়াত দুই নেতার স্মৃতিচারণে
শপথ এগিয়ে চলার

রাজ্য কলকাতা

COM MRIDUL DEY  MADAN GHOSH বুধবার কমরেড মৃদুল দে ও মদন ঘোষের ছবিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সীতারাম ইয়েচুরি এবং মহম্মদ সেলিম।

জীবন কেবল যাপন করেননি। জীবন উদ্‌যাপন করেছেন তাঁরা। সমাজের জন্য, প্রগতির জন্য। কঠিন সময়ে তাঁদের জীবন থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। এগিয়ে চলার লড়াই সংগঠিত করতে হবে।

প্রয়াত কমরেড মদন ঘোষ এবং কমরেড মৃদুল দে’র স্মৃতিচারণ করে এই মর্মে বার্তা দিয়েছেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। বুধবার কলকাতায় প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে স্মরণসভায় সভাপতি ছিলেন পার্টির প্রবীণ নেতা এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বক্তব্য রেখেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন পলিট ব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। 

প্রয়াত দুই নেতাই সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। কমরেড মদন ঘোষ ছিলেন কৃষক আন্দোলনে সর্বভারতীয় স্তরের নেতা। মৃদুল দীর্ঘসময় যুক্ত থেকে ‘গণশক্তি’-র সঙ্গে। 

ইয়েচুরি জানিয়েছেন দীর্ঘ সময় বহু বিষয়ে প্রয়াত দুই নেতার সঙ্গে বহু বিষয়ে আলোচনার স্মৃতি। তিনি বলেছেন, ‘‘কৃষিকে কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়ার বিপদ নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে মদন ঘোষের সঙ্গে। আর মৃদুল দে’র সঙ্গে, বিশেষ করে দুনিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। আজ তাঁরা নেই। যন্ত্রণা আছে। কিন্তু তাঁদের পথ ধরে এগিয়ে চলা আমাদের কাজ।’’ 

দেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন ইয়েচুরি। তিনি বলেন, ‘‘দেশের সরকার আসলে সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্থ সঙ্গী হয়ে চলছে। আবার দেখাচ্ছে এমনভাবে যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে। রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি করছে ঠিকই। কিন্তু কম দামে তা পাওয়া যাচ্ছে। আর ভারতে পরিশোধিত হয়ে রপ্তানি হচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপে। ইউরোপে রপ্তানি করা তেলে ৯৫ শতাংশ পরিশোধিত হচ্ছে রিলায়েন্সের পরিশোধনাগারে। একদিকে সাম্রাজ্যবাদ, আরেকদিকে দেশের শাসকদের ঘনিষ্ঠ সরকার। কর্পোরেট-হিন্দুত্ব জোট আমজনতার জীবনজীবিকার হাল শোচনীয় করছে।’’ 

ইয়েচুরি বলেন, ‘‘এই সরকারই সংবিধান, সংসদ, বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমকে দখলে নেমেছে। ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং প্রজাতান্ত্রিক চরিত্রকে রক্ষার জন্য সরকার থেকে বিজেপি’কে দূরে রাখা জরুরি।’’ 

লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ইয়েচুরি জানান তিনটি দিক রাখা হচ্ছে বিবেচনায়। এক, সাম্প্রদায়িকতা থেকে জাতভিত্তিক জনগণনার জন্য জাতীয় স্তরের বিষয়ে রাজ্যে রাজ্যে প্রচার। বিভিন্ন শক্তিই সমবেত হবে। দুই, বেকারি জিনিসের দামের মতো জীবনজীবিকার বিষয় নিয়ে জনতার সংগ্রাম গড়ে তোলা। তিন, রাজ্যস্তরে বাস্তবতা অনুযায়ী বিজেপি’কে পরাজিত করার কৌশল।’’ উত্তর পূর্ব থেকে হিমাচল প্রদেশ বা দিল্লির নজির টেনে বলেছেন বিজেপি অপরাজেয় নয়। 

মহম্মদ সেলিম স্মৃতিচারণায় প্রয়াত দুই নেতারই চিন্তা এবং সংগ্রাম, দুই স্তরেই বিচরণের নানা উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিক্রিয়ার শক্তি চিন্তাকে সঙ্কীর্ণ গলিতে আটকে রাখতে চায়। তাই প্রগতির পক্ষে লড়াইয়ের সেনানিদের মগজে শান দিতে হয়। জীবনবোধকে উন্নত করতে হয়। মতাদর্শ আত্মস্থ করতে হয়। কমরেড মদন ঘোষ এবং কমরেড মৃদুল দে’র সেই চেষ্টা করে গিয়েছেন। অন্যদেরও সহায়তা করেছেন।’’ 

Comments :0

Login to leave a comment