জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। তার মধ্যেও কোনোরকমে নিজেকে টিকিয়ে রাখছে নিম্ন আর মধ্যবিত্ত মানুষ। এই আগুন বাজারে নিত্যদিনের পুষ্টির কথা ভাবাও বিলাসিতা। সেখানে মিড-ডে মিলে ছাত্র-ছাত্রীদের মাথাপিছু নামমাত্র বরাদ্দ বাড়েছে। পুষ্টি বাজেট নির্ধারণ করে মিড-ডে মিল'র বাজেট বাড়াতে হবে বুধবার এই এই দাবি করল এসএফআই। বাজেটে যে টাকা শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হয়েছে তা নিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। এই বিষয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে কয়েকটি প্রশ্ন তোলে এসএফআই। তাদের দাবি “পুষ্টি বাজেট নির্ধারণ করে মিড-ডে মিল'র আরও বাজেট বাড়াতে হবে। বেসরকারি সংস্থার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া আসলে অশনি সঙ্কেত।’’ এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, সভাপতি প্রণয় কার্য্যী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সম্পাদক ঋজুরেখ দাশগুপ্ত।
প্রণয় কার্য্যী বলেন, ‘‘রাজ্যের বিজেপি সরকার বাজেটে শিক্ষার জন্য যে বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে, তা ছাত্রছাত্রীদের আই ওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। রাজ্যের ব্যাপক অংশের ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে বরাদ্দের অঙ্ক মিলছেনা । ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জি যে গালগল্প দিয়েছিলেন, তারই মতো এই বাজেট।’’
দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘‘আরএসএস নিয়ন্ত্রিত, বিজেপি পরিচালিত এই বাজেট। স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য পিএসসিআরআই ৪০ শতাংশ টাকা সরকারি স্কুলগুলির পাওয়ার কথা। কোন স্কুলগুলি পাবে, কারা পাবে না, যারা পাবে না তারা কি করবে সে বিষয়ে কোন কথা বলা হয়নি।’’ তাঁর অভিযোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার কোটি টাকা প্রাপ্ত ছিল তা দেওয়া হয়নি তারমধ্যে, ২০০ কোটি উল্লেখ ছাড়া বাজেটে এই বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই সঠিক ফেকালটি নেই। ফলত,বিশ্ববিদ্যালয় ধুকছে। যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০০০ টিচার নিয়োগ করলেই তা শেষ হয়ে যাবে, প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বরাদ্দ নেই। তাঁর কথায় আদিবাসীদের জন্য ওয়েসিস প্রকল্প বরাদ্দ বাড়ানোর কোন কথা নেই বাজেটে। সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উন্নয়নে বিনিযোগের কথাও নেই বাজেটে। শিক্ষাক্ষেত্রে সামগ্রিক উন্নয়নের দিশাই নেই রাজ্য সরকারের এই বাজেটে। যেগুলো আছে তার উন্নয়ন নেই তার বদলে বিদেশি মাদ্রাসাগুলিকেও তুলে দেওয়ার পরিকল্পন করছে বিজেপি। বিভাজনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ব্যায় বরাদ্দ কম করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুষ্টি বাজেট নির্ধারণ করে মিড-ডে- মিলে'র আরও বাজেট বাড়াতে হবে। বেসরকারি সংস্থার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া। খাদ্যাভাস পরিবর্তন করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংস্কৃতি, কৃষ্টির উপর আক্রমণ নামিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর কথায় আসলে আরএসএস জিভের স্বাদ নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে।’’ দেবাঞ্জন দে অভিযোগ করে বলেন, ইস্কনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পুষ্টির মানদন্ড পুরনে এরা ব্যার্থ। সরকারি টেন্ডার ছাড়া এই ঘটনা অশনি সংকেত। বেসরকারি হাতে মিড-ডে-মিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ফলে স্বনির্ভর প্রকল্পের রন্ধন কর্মীরা কোথায় যাবেন ? এসএফআই’র তরফে, এই অনৈতিক, বেআইনী ঘৃন্য কাজ, প্রত্যাহার দাবি করা হয়।
শাপাশি, এদিন দেবাঞ্জন দে আরও বলেন, ‘‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনও কথা নেই সরকারের মুখে। ক্যাম্পাসগুলিতে এবিভিপি দখলদারি চালানোর চেষ্টা করছে। অবাদ সুষ্ঠ নির্বাচন ব্যাবস্থা করতে হবে। নির্বাচনের গাইডলাইন প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি অডিট রিপোর্ট পেশ করতে হবে, এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী মুখে কুলুপ দিলেও, পাবলিক ডোমেনে অডিট রিপোর্ট আনতে হবে।’’
SFI Press Conference
মিড ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি এসএফআই’য়ের
×
Comments :0