ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার গভীর সংকটে। সংবিধান বাঁচাতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যবহার করে ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মিশিয়ে ফয়দা তোলার কৌশলকে পরাজিত করতে হবে।
শনিবার জলপাইগুড়িতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী সমিতি (ডব্লু বি এম ও এ)-র ৮২তম রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে এ কথা বলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদল কর্পোরেট ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করছে এবং ব্যাপক বেসরকারিকরণের মাধ্যমে শ্রমিক–কৃষক–মেহনতি মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এই জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই ধারাবাহিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই আক্রমণের মোকাবিলা করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ন্যায্য অধিকার হরণ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে হয়েছে সম্মেলন। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনৈতিক বদলি ও প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে কর্মচারীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে। নতুন নিয়োগ কার্যত বন্ধ রেখে বিদ্যমান কর্মচারীদের উপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপানো হচ্ছে, যা সরকারি পরিষেবা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।
প্রকাশ্য সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অরূপ চন্দ বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে সরকারি ক্ষেত্রকে দুর্বল করে বেসরকারিকরণের পথে এগিয়ে চলেছে। ব্যাংক, বিমা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কর্পোরেট পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
সম্মেলন থেকে সরকারি কর্মচারীদের সমস্ত বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ, অনৈতিক বদলি বাতিল, শূন্যপদে নিয়োগ, চাকরির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী দিনে আরও তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক সুব্রত রায় জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি এই রাজ্য সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক সুদীপন মিত্রও।
Comments :0