cpim bookstall highcourt

বিরোধী স্বর বন্ধ করা গণতন্ত্র নয়, বুকস্টলের মামলায় খেদ হাইকোর্টের

রাজ্য

বিরোধী দলের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। 
শারদ উৎসবের সময় বনগাঁর যশোর রোডে একটি বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি চেয়ে সিপিআই(এম) করা মামলার শুনানি সময় এই মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। 
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য, লটারির দোকান তো নয়। একটি বইয়ের দোকান বসানোর প্রস্তাব ছিল। তা’হলে এভাবে ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন।
সওয়ালে সিপিআই(এম)’র পক্ষে জানানো হয় যে একই জমিতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন স্টল করছে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে স্টল করা হচ্ছে। এবার করতে যাওয়ায় আটকানো হয়েছে।
আদালত প্রশ্ন তোলে যে সরকারি জমি বলে একটি স্টলকে বন্ধ করা হলে একই জায়গায় অন্য কেউ স্টল করছে কিভাবে? প্রশাসনিক নীতি সকলের ক্ষেত্রে এক হতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিচারপতি নির্দেশ দেন যে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে একই জায়গায় অনুমতি না নিয়ে অন্য কোনও স্টল হচ্ছে কিনা। 
রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল এই নির্দেশের বিরোধিতা করে বলেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আবেদন জমা পড়েনি। বিচারপতি বলেন, দু’তরফে এফআইআর হওয়ার পরও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না?  বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছেই জানতে চান, সিপিআই(এম) যেখানে বইয়ের স্টল বসানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, ঠিক সেই একই জায়গায় কীভাবে অন্য একটি স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হলো।
সিপিআই(এম)-র তরফে আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে বলেন যে বইয়ের স্টল বসানোর বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও এসডিও-কে আগেই জানানো হয়েছিল। ১ অক্টোবর যখন বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী স্টলটি তৈরি করা হচ্ছিল, তখন 'হিন্দু জাগরণ মঞ্চ'-এর সদস্যরা তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং নিজেদের স্টল বসায়। অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপের কাছে সিপিআই(এম) গত ৫০ বছর ধরে এই অস্থায়ী বইয়ের স্টল বসিয়ে আসছে। কিন্তু এবার সেখানে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর একটি স্টল বসানো হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment