SRFTI

চলছে টানা অবস্থান, সত্যজিত রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে হিংসার ঘটনায় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি

রাজ্য কলকাতা

এসআরএফটিআই-তে হামলায় আহত হন ছাত্রছাত্রীরা।

ক্যাম্পাসে হিংসার জেরে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ বুধবার তৃতীয় দিনে গড়াল। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন ছাত্রছাত্রীরা।
১৩ অক্টোবর এক বিবৃতিতে এসআরএফটিআই'র ছাত্র সংসদ অভিযোগ করেছে যে ক্যাম্পাসে হিংসার ঘটনায় ৪ অক্টোবর একটি মিছিল ক্যাম্পাসের গেটে পৌঁছানোর আগে কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
পরপর দু’দিন এসআরএফটিআই-এ হামলা চালিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। 
শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বলেছে যে পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো হয়েছে। প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। 
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর দু’বার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) ছাত্ররা হামলার মুখে পড়েন। আহত হন ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রীদেরও আক্রমণ করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ৪ অক্টোবর আবার ছাত্রছাত্রীদেরই ভয় দেখাতে গেটের সামনে জমায়েত করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা যদিও ভয়ে পিছিয়ে যাননি। বারবার ধিক্কার জানিয়েছেন।
ছাত্র সংসদের বিবৃতি অনুযায়ী,  আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ভোক্তা সচেতনতা বিষয়ক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (এবিজিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সূত্র ধরেই ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি ঘটে। 
ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ওই সংগঠনের নাম উল্লেখ করে পঞ্চসায়র থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এর পর গত ৪ অক্টোবর 'বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ' আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে ক্যাম্পাসে আবারও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ প্রতিষ্ঠানের গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। 
ছাত্র সংসদের দাবি, ৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের গেট পর্যন্ত মিছিলের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও মিছিলটিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছানো থেকে আটকাতে প্রশাসন পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি।
ছাত্র সংসদ বলেছে, ৪ অক্টোবরের ঘটনার পর পুলিশের কাছে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল তাতে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, ৫ ও ৬ অক্টোবর উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের একাংশ তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করে।
ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলেন যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পেশাগত জীবনে নেতিবাচক পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। 
এসআরএফটিআই -তে টানা ১৭ দিন ধরে পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment