Girindranath Barman

জার্সি বদলাতে ব্যস্ত ছাপ্পাভোট, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গিরীন্দ্রনাথ বর্মন

জেলা

জয়ন্ত সাহা: কোচবিহার

এই মুহুর্তে তিনি তৃণমূল দলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান আছেন কিনা নিজেও জানেন না!  কলকাতা থেকে কেউ আর খোঁজ নেয় নি ভোটের পর! দলের জেলার নেতা-কর্মীরা কেউ আর তাকে ফোন করেন না। বাড়ির সামনের সেই ভীড় উধাও! এখন স্বেচ্ছা গৃহবন্দী গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। এক সময়ে তিনি দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। পরে দলের জেলা চেয়ারম্যান। আর অভিযোগ উঠেছে এই দুই পদে থাকাকালীন তিনি মনীষী পঞ্চানন বর্মার নাম ভাঙিয়ে প্রচুর টাকা কামিয়েছেন! তার বিরুদ্ধে সব চাইতে বড় অভিযোগ তিনি পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস মনীষীর জন্মভিটে করার জন্য নিজের উদ্যোগে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন ট্রাস্টি বোর্ডের নামের আড়লে। প্রচার করেছিলেন দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ভবন গড়বেন। তিনিই শাসক দলের কখনও জেলা সভাপতি আবার কখনও দলের জেলা চেয়ারম্যান। ফলে ব্যবসায়ীরা দুহাত ভরে টাকা দিয়েছেন। এই ভবন নির্মানের জন্য রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের কোন অনুমতি তার কাছে না থাকা সত্বেও তিনি কি করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুললেন? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে মনীষী অনুরাগীরা।
মনীষী অনুরাগী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা যুবক চীরঞ্জিত বর্মনের অভিযোগ উনি শুধু টাকা তুলেছেন তাই নয়, উনি বামফ্রন্টের আমলে তৈরী মনীষী পঞ্চানন বর্মা গবেষনাগার ও সংগ্রহশালা বন্ধ করেছেন। সেখানকার সাইনবোর্ড সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন। মনীষীর সমগ্র স্মৃতি স্মারক ঠাঁই পেয়েছে গোডাউনে। খলিসামারী সহ জেলা জুড়ে মনীষী অনুরাগীদের প্রশ্ন এত লক্ষ লক্ষ টাকা উনি তুললেন অথচ মনীষীর ভিটের ওনার ঘরটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও তার জন্য উনি কিংবা রাজ্য সরকার একটি টাকাও খরচ করে নি। দুর্নীতি ও অনিয়ম ছাড়াও তার বিরুদ্ধে উঠেছে হাজার অভিযোগ। আর তাতেই প্রমাদ গুনছেন তিনি। বাইরে বের হলেই হিসেব চাইবে মনীষী অনুরাগীরা। দুর্নীতি ছাড়াও মনীষী অনুরাগী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পছন্দ করা মানুষটির বিরুদ্ধে গত পৌরসভার ভোটে মাথাভাঙার যে ১১ নং ওয়ার্ডে তার বাড়ি সেখানে নিজের ভাইকে ভোটে দাঁড় করিয়ে ভোট লুট করে জেতানোর অভিযোগ রয়েছে। নিজে বুথে দাঁড়িয়ে থেকে বিরোধী এজেন্ট ও প্রার্থীদের বুথ থেকে বের করে দিয়ে ছাপ্পা ভোট করিয়েছিলেন। দুর্নীতি ও ছাপ্পাভোট করানো এই মানুষটি এখন ঘরে বসেই বিজেপিতে ঝাঁপ দিতে বিজেপির মন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জার্সি বদলের রাস্তা পরিস্কার করতে ব্যস্ত। যেদলের এতদিন জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যান ছিলেন সেই দল ও সরকারের প্রতি বিষোদগার করে সাংবাদিকদের বলছেন, তৃণমূল সরকার মনীষী পঞ্চানন বর্মার জন্য কিছুই করে নি। জেলার মনীষী অনুরাগি সুতপা রায়, অনিল রায়দের সাফ কথা উনি জার্সি বদলে পদ্মাসনে বসবেন কিনা সেটা ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে উনি মনীষী পঞ্চাননের নাম ব্যবহার করে যে টাকা তুলেছেন তার হিসেব জনসমক্ষে দিতে হবে। পাশাপাশি তাকে প্রকাশ্যে বলতে হবে এতদিন লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি কার ইশারায় তুলেছেন। সরকারের অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য ভবন নির্মানের অনুমতি ছিল কিনা?

Comments :0

Login to leave a comment