জলপাইগুড়ি শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে করলাভ্যালি চা বাগান। অথচ শহরের এত কাছে থেকেও আজ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বাগানের হাজার হাজার মানুষ। কারণ, রুকরুকা নদীর উপর নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে। বর্ষা আসন্ন। তার আগেই ব্রিজের কাজ শেষ না হলে চা বাগানের শ্রমিক থেকে স্কুল পড়ুয়া— সকলের জীবনযাত্রাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার সকালে অর্ধসমাপ্ত ব্রিজের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন করলাভ্যালি চা বাগানের শ্রমিকরা। সিআইটিইউ অনুমোদিত চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন এবং অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআই(এম) সদস্যা রুবিনা মুন্ডার নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদল ও প্রশাসনিক উদাসীনতার জেরেই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া ব্রিজের কাজ হঠাৎ থমকে গিয়েছে।
জানা গেছে, চড়কডাঙ্গি লাইনের পুরনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল। নতুন সেতুর দাবিতে একাধিকবার আন্দোলনে নামেন বাগানের বাসিন্দারা। বাগানের ভিতরে মিছিল-বিক্ষোভের পাশাপাশি আসাম মোড়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধও করা হয়। সেই আন্দোলনের পর তৎকালীন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও মিহির কর্মকার ভাঙা সেতু পরিদর্শনে আসেন। এরপর গত বছরের কালীপুজোর সময় পুরনো ব্রিজ ভেঙে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস কাজ এগোনোর পর হঠাৎই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ব্রিজের অধিকাংশ কাঠামো তৈরি হলেও সংযোগ রাস্তা ও উপরের অংশের কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে এখনও বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে মানুষকে।
স্থানীয় সিপিআই(এম) পঞ্চায়েত সদস্যা রুবিনা মুন্ডা বলেন, “বর্ষা শুরু হয়ে গেলে এই রাস্তা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাবে। স্কুল পড়ুয়া, বৃদ্ধ মানুষ, অসুস্থ রোগী— সকলেই সমস্যায় পড়বেন। এখনই বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াতে ভয়ঙ্কর সমস্যা হচ্ছে।”
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের করলাভ্যালি ইউনিটের সম্পাদক গোবিন ওরাওঁ অভিযোগ করেন, “প্রায় আট মাস ধরে কাজ বন্ধ। প্রশাসনের কোনও নজর নেই। দ্রুত কাজ শুরু না হলে আগামী সপ্তাহে সদর বিডিও দপ্তর ঘেরাও করা হবে।”
সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক শুভাশিস সরকার বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ এতদিন ধরে কেন বন্ধ রয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর প্রশাসনের কাছে নেই। শহরের এত কাছে একটি চা বাগানের মানুষকে এই অবস্থায় থাকতে হচ্ছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই রাস্তা শুধু করলাভ্যালি চা বাগানের জন্য নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষেরও একমাত্র যাতায়াতের পথ। প্রতিদিন বহু ছাত্রছাত্রী এই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলে যায়। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে বলে আশঙ্কা।
Comments :0