ICDS workers attacked by Annapurna deprived.

মহিলাদের বিরুদ্ধে মহিলাদের লড়াই বাঁধাচ্ছে সরকার, বলছেন বঞ্চিতদের হাতে আক্রান্ত আইসিডিএস কর্মীরা

রাজ্য জেলা

বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি সংকল্প পত্র প্রকাশ করে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে ছিলেন রাজ্যের মহিলাদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’র দ্বিগুণ অর্থ দেওয়া হবে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী, সেই সময় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন অতিক্রান্ত তবুও প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না বহু মহিলা। প্রতিশ্রতি মতো টাকা পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। বহু মহিলার দাবি, প্রতিশ্রুত ৩ হাজার টাকা তো মেলেইনি, উলটে বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও। সরকারের তরফে, ১৭ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণ দেখিয়ে উপভোক্তাদের নাম বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায়, টাকা না পাওয়ায় বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশন করতে যাওয়া অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উপরেই চড়াও হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। সামাজিক নিরাপত্তার দাবি করছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তাদের বক্তব্য অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের কিন্তু তা না করে, মহিলাদের বিরুদ্ধে মহিলাদের লড়াই বাঁধাচ্ছে সরকার। আমাদের সুরক্ষার দায়িত্ব কি সরকারের নয়? এমনটাই প্রশ্ন তুলছেন আইসিডিএস কর্মীরা।   
শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়। অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষোভকারী মহিলারা। এদিন বেলা দশটা নাগাদ দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের চকভৃগু এলাকার ময়ামারি গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝোলালে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ায় গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের কর্মীকে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রামের মহিলারা। গ্রামের মহিলারা ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই সেন্টারের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ছুটে আসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এদিন গ্রামের মহিলারা অভিযোগ করেন, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের বিভিন্ন বিষয়ের সরজমিন তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ওই সেন্টারে কর্মী। কিন্তু তিনি সঠিক দ্বায়িত্ব পালন করেননি বলেই তারা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাচ্ছে না। সাংবাদিকদের সামনে ওই সেন্টারের কর্মী বলেন, আমি এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি চিনি। আমার ভূল হয়নি যা সত্যি তাই পাঠিয়েছি। তিনি দাবি করেন, এদের বেশিরভাগই পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশ মতো আমার যেটুকু কাজ ছিলো আমি করে দিয়েছি। কিন্তু কেন পাচ্ছে না আমিও জানিনা। তিনি বলেন, আমি ওদের বলেছি আপনারা বিডিও অফিসে চলুন প্রয়োজনে আমিও সঙ্গে যাবো। এদিনই উপভোক্তাদের হাতে আক্রান্ত হন বসিরহাট-১নং ব্লকের পিফা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৫নং কেন্দ্রের আইসিডিএস কর্মী প্রীতি সাহা। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ অঙ্গনবাড়ি কেন্দ্রে কর্মরত অবস্থায় তার উপর চড়াও হয় অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের বঞ্চিতরা। তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়। শেষমেষ পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এদিন সেই অভিযোগ জানাতেই পিফা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যান্য কর্মী সহায়িকাদের সঙ্গে নিয়ে আসেন বিডিওর কাছে। কিন্তু ফিরতে হয় খালি হাতে। কেন? বিডিও নেই। বিচার চাইতে ফের তাঁরা আসবেন এবং বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন। ঘড়িতে তখন দুপুর আড়াইটে। বসিরহাট -১নং বিডিও অফিস চত্বর, আসেপাশের নেট পয়েন্টগুলিও তখন ভিড়ে ঠাসা অন্নপূর্ণা যোজনায় বঞ্চিতদের ভিড়ে। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের দেখতে পেয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে ভেসে এলো তাদের নানান কটূক্তি। এহেন পরিস্থিতিতে আইসিডিএস কর্মী ছন্দা সরকার,ডালিয়া মমতাজ ও আক্রান্ত আইসিডিএস কর্মী প্রীতি সাহা জানালেন, এই চড়া রোদ উপেক্ষা করে, নাওয়া খাওয়া ফেলে কেন তারা এদিন এসেছেন বিডিওর দরবারে? তাদের অভিযোগ, প্রশাসন থেকে অনৈতিকভাবে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় অন্নপূর্ণা যোজনায় তাদের  নিজের নিজের কেন্দ্রের অধীনে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে বিডিও অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার। প্রশাসন থেকে বলা হয় এই কাজে মাইকিং করা এবং পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তথাপি, বসিরহাট -১নং ব্লকের পিফা এলাকায় মাইকিং করা হয়নি। পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও তারা বাধ্য হয়, যে যার কেন্দ্র সামলে দায়িত্বপূর্ণভাবে জীবনের ঝুকি নিয়ে এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে। দেখা যায়, পরবর্তীতে কেউ পায় কেউ পায় না। যাদের নাম ডিলিট করা হয়েছিল আশ্চর্যজনকভাবে তাদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে ঢুকে গেল। কিন্তু প্রকৃত গরীব মানুষদের অ্যাকাউন্টে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় কোন দফাতেই টাকা ঢুকলো না। তার উপর আবার কেউ একমাস পেল তো আর পেল না। কেউ দুমাস পেয়ে এমাসে আর পেল না। সকাল হলেই আমাদের কেন্দ্রে যেতে হয়। রোজ নানান গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে। আমরা তো আমাদের ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেছি। তবে কেন আমরা মহিলা হয়ে মহিলা উপভোক্তাদের হাতে আক্রান্ত হবো? এতো দেখছি মহিলাদের বিরুদ্ধে সরকার মহিলাদের লড়াই বাঁধিয়ে দিচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাইতে এবং প্রীতি সাহার উপর এদিন যেভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হলো, তার বিচার চাইতে এসেছি।
জানা গিয়েছে, এদিন বসিরহাট মহকুমার ১০টি বিডিও অফিসে একই চিত্র। সকাল থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনায় বঞ্চিতদের ভিড় লেগে যায়।ভিড় লক্ষ্য করা যায় বিডিও অফিস গুলির আসেপাশে থাকা নেট পয়েন্টগুলিতে।সর্বত্রই ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা। বারবার ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পরও টাকা না পাওয়ায় এদিন শয়ে শয়ে বঞ্চিতরা মিনাখাঁ বিডিও অফিস সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বাসন্তী হাইরোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভ দেখায় বিডিও অফিসেও। শেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।

Comments :0

Login to leave a comment