Trawler Tragedy

ট্রলারডুবিতে নিহত মৎস্যজীবীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্য জেলা

মৎস্যজীবীদের দুর্দশার মূলে তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘‘মৎস্যজীবীদের কথা ভাবে না ওরা। তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। এই প্রথম রাজ্যের সরকার মৎস্যজীবীদের কথা ভেবেছে। তাদের পাশে থেকেছে। বামফ্রন্টের আমলে মৎস্য মন্ত্রী যখন ছিলেন তখন মৎস্য দপ্তর বলে লোকে চিনতো। তৃণমূলের আমলে মৎস্যজীবীদের জন্য কোন কাজই করেনি। আগামী দিনেও তাদের সমস্যা দূর করার জন্য ৫০ জনের একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হবে। তারাই সমুদ্র উপকূল জুড়ে নজদারির করবে।’’ রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর -১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাগৃহে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের হাতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। শংকরপুর থেকে গত ২ জুলাই বেরিয়ে যাওয়া মা দুর্গা ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ৫ জুলাই। নিখোঁজ হয়ে যায় ১৫ জন মৎস্যজীবী। ১১ জুলাই সুন্দরবন উপকূলে উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। এ পর্যন্ত ১১ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ৪ জন এখনও নিখোঁজ। নিখোঁজ হওয়া মৎস্যজীবী পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৯ জনের মধ্যে উপকূলীয় রামনগরেরই আটজন ছিলেন, একজন পটাশপুরের এবং নদীয়ার ২ এবং হাওড়ার ১ জন মৎস্যজীবী পরিবারের হাতে সরকারি সাহায্য প্রদান করা হয়। রামনগর -১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাগৃহ থেকে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ওই জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট ভিডিও অফিসের মাধ্যমে সরকারি সাহায্য তুলে দেওয়া হয়। পাশের উড়িশা রাজ্যের তিন জনের পরিবারকে সাহায্য প্রদান করা হবে সচিবালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। সরকারি সাহায্য প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রসেখর মন্ডল, দিঘা ফিসারম্যাম এন্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান  প্রনব কর, শংকপুর ফিসারম্যান এন্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়েক। বাংলার ১২ টি মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে সরকারি সাহায্য ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী কিরণময় নন্দের আমলে মৎস্যদপ্তর বলে কিছু জানা যেতো। তার পর মৎস্য দপ্তর আছে বলে কেউ জানতেন না। আমরা চেস্টা করছি মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের সমস্যা সমাধান করতে। মোহনার ড্রেজিং সহ একাধিক উন্নয়ন মূলক কাজ হবে। আগে সব দপ্তর পরিচালিত হত কালিঘাট থেকে। ১৭ দপ্তর ছিল কালীঘাট এলাকায়। তারা কেউ জানতেন না মৎস্য দপ্তর বলে কি। আমরা নোনা এলাকার বাসিন্দা। আমরা মৎস্যজীবীদের দূর্দশার কথা জানি। তাই তাদের পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। সমুদ্রযাত্রায় মৎস্যজীবীদের জীবন সুরক্ষিত করতে এবং ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করতে শঙ্করপুর মোহনার দীর্ঘদিনের জমতে থাকা পলি পরিষ্কার করে নাব্যতা সংস্কার ও তা নিয়মিত সংস্কার করার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে জোয়ার-ভাটার সময় ট্রলারগুলি কোনও বিপদে না পড়ে। উপকূলীয় কোস্টাল পুলিশ থানাগুলিতে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী নিয়োগ, গতিসম্পন্ন রেস্কিউ বোট ও উদ্ধারকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করে শক্তিশালী করা হবে। বিশেষ করে দীঘা, শঙ্করপুর এবং খেজুরি থেকে উদয়পুর পর্যন্ত বিস্তৃত মেদিনীপুর উপকূলের সমুদ্র মোহনা অঞ্চলে সার্বক্ষণিক সতর্ক নজরদারি ও জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ ৫০ জনের একটি কুইক রেসপন্স টিম তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ৫০ জনের দলটি আধুনিক সরঞ্জাম ও গতিসম্পন্ন উদ্ধারকারী বোট নিয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে যে কোনও দুর্ঘটনায় দ্রুততম সময়ে উদ্ধারকার্য চালানো সম্ভব হবে।

Comments :0

Login to leave a comment