হকারদের উচ্ছেদে বুলডোজার রাজ বন্ধ করার দাবিতে, দফায় দফায় পেট্রোপণ্যের মুল্যবৃদ্ধি, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে সোমবার নোনাপুকুর ট্রাম ডিপো থেকে এন্টালি মার্কেট পর্যন্ত মিছিল করল সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।
সোমবার মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোস বোস, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা, রাজ্য সভাপতি জাহানারা খাতুন সহ নেতৃবৃন্দ।
এদিনের মিছিল থেকে কনীনিকা ঘোস বোস বলেন, ‘‘একদিকে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি, সারা ভারতজুড়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। অন্যদিকে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য জুড়ে চলছে বুলডোজার রাজ, আগে এই ঘটনা বিহার উত্তর প্রদেশ দিল্লি দেখেছ, পশ্চিমবঙ্গ এই প্রথমবার দেখছে। হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া বিনা কোন নোটিশে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু গরিব মানুষদের বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে বলে ছিল 'ভয় নয় ভরসা'। এটা যদি ভরসা হয় ভয় তবে কী! আতঙ্কগ্রস্ত গরিব হকাররা এখন কী করবেন?’’
তিনি বলেন, ‘‘বামপন্থীরা যখন বলছে যে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না তখন এমন লাঠিচার্জ করেছেন যে একাধিক বাম নেতৃবৃন্দ আহত হয়েছেন। এই বুলডোজার রাজ পশ্চিমবঙ্গে চালানো যাবে না।’’
মিছিল থেকে মোনালিসা সিনহা বলেন, ‘‘এরাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেখা গেল কেন্দ্রে তাদেরই সরকার তিনবার পেট্রোপণ্য ও গ্যাসের দাম বাড়ালো। উল্টোদিকে, হকারদের রুটিরুজির কোন সংস্থান না করে, যথাযথ পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করে অমানবিকভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। যে আশা নিয়ে সাধারণ মানুষ এই সরকারকে ক্ষমতায় আনলেন তার কী হলো? হকারদের রুটি-রুজির প্রশ্নে সরকারের মানবিক হওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেছিলেন যাদবপুরে তাঁদের ওপরে আক্রমণ নামিয়ে আনলো পুলিশ। এটা কোন সভ্য সমাজে কি চলতে পারে? ওইভাবে মাঝরাতে হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে, পুলিশের একটুও মানবিকতা থাকবে না?‘‘
জাহানারা খাতুন বলেন, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশন গুলিতে যেভাবে গরিব মানুষদের যেভাবে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তার প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় রয়েছে। আমরা বলছি হকারদের উচ্ছেদ করার আগে তাদের কিছুটা সময় দেওয়া হোক। উপযুক্ত পুনর্বাসন দেওয়া হোক।’’
Comments :0