Hawkers eviction

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে শ্রমিক বিক্ষোভ

রাজ্য কলকাতা

নির্মমভাবে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে লাল ঝান্ডা। আরও হিংস্র ভাবে লড়াই দমানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। প্রতিরোধও হচ্ছে লাগাতার। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন সমূহ এবং পশ্চিমবঙ্গ রেল হকার ও স্ট্রিট হকার সংগঠনগুলির ডাকে কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন যে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না। কথা বলতে হবে হকারদের সঙ্গে, সময় দিতে হবে তাঁদের। 
পূর্ব রেলের সদর দপ্তরের সামনে এদিনের বিক্ষোভ সভা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির নেতৃবৃন্দ পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে কথাও বলেন। তাঁদের দাবি সনদও পেশ করেন। এদিনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম, পশ্চিমবঙ্গ রেল হকার্স ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক দীপঙ্কর শীল, সভাপতি অলোকেশ দাস, সংগঠনের নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি সহ ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু। 
সমাবেশে জিয়াউল আলম বলেন, "রেল আমাদের দেশের লাইফ লাইন। আমরা কেউই তার উন্নতি বা প্রসারের বিরোধী নই। হকাররাও তার বিরোধিতা করছেন না। কিন্তু যারা অল্প পুঁজি নিয়ে সারা দিন কায়িক শ্রম দিয়ে সম্মানজনক ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। সব পেশাই মানুষের কাছে মহান। সংবিধানে হকারি পেশা কী নিষিদ্ধ? এই কথা কোথাও লেখা আছে?"


তাঁর কথায়, ’’শ্রমজীবী মানুষের থেকে জীবন জীবিকার অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। কেন তাদের উচ্ছেদ করছেন। নির্দিষ্ট নোটিস না দিয়ে। কেন ভেন্ডিং কমিটি তৈরি করা হলো না। বুলডোজার নিয়ে এসে, প্লে লোডার দিয়ে গুড়িয়ে দিচ্ছে এরপর এক দোকান। সঙ্গে রাখা হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী।’’ তিনি বলেন, ‘‘রেল বলেছে এই জমি তাদের। কিন্তু রেলপথ বিস্তারের সময় বহু মানুষ তাঁদের জমি দিয়েছিলেন রেলকে।’’
জিয়াউল আলম আরও বলেন, "১০ লক্ষের বেশি রেল হকার আছে এরাজ্যে। তাদের যদি জীবিকা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অর্থনীতির উপর চাপ আসবে। একেই রাজ্যে ১০০ দিনে কাজ বন্ধ। গ্রামীণ অর্থিনীতি ভেঙে পড়ার হাল। হকারদের বিকল্প না ব্যবস্থা করলে সমস্যা বাড়বে। তাই আমাদের এই আন্দোলন লাগাতার চালিয়ে যেতে হবে।"  


সমাবেশে অলোকেশ দাস বলেন, " লড়াইয়ের পথ অনেক দীর্ঘ। রেল আজকে যা বলছে তাদের জমি, একটি জমিও রেলের নয়। 
দেশের উন্নয়ন ও মানুষের পরিষেবার জন্যই মানুষের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছিল।’’ তিনি বলেন, ‘‘রেলকে ঘিরে বাজার তৈরি হয়েছে। সেই বাজার তৈরি করেছে হকাররাই। আজ সেই বাজারকে কর্পোরেটের হাতে তুলে দিতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।’’ তিনি বলেন, ‘‘কথা বলুন, সময় দিন, পুনর্বাসন দিন। না হলে এরপর দিল্লি যাবো রেলমন্ত্রীর কাছে। দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব।"


গার্গী চ্যাটার্জি বলেন, ‘‘রেলের উন্নয়নের কথা বলে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে। কিন্তু হকারদের বাদ রেখে এই উন্নয়ন সম্ভব? যারা শ্রম দিয়ে দিন আনে দিন খায় তাদের পেটে লাথি মারছে প্রশাসন।’’ তিনি বলেন, ‘‘ভেন্ডিং কমিটি করে পুনর্বাসন দিতে হবে। গায়ের জোরে উচ্ছেদ চলছে। অত্যাচারীরা শেষ কথা বলে না। শেষ কথা বলবে মানুষের লড়াই।’’

Comments :0

Login to leave a comment