Salim

মার্চ থেকেই শুরু নির্বাচনী প্রচার, জানালেন সেলিম

রাজ্য

১ মার্চ থেকে রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে সিপিআই(এম)। রবিবার সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য দপ্তর হরেকৃষ্ণ কোঙার স্মৃতি ভবনে সাংবাদিক বললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেলিম বলেন, ‘জেলা ভিত্তিক, বিধানসভা ভিত্তিক এমনকি বুথ ভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মানুষের কী সমস্যা সেই সব উঠেছে এসেছে। তার ভিত্তিতে নথি তৈরি করা হবে।’ সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকের কথায়, মহিলাদের নিরাপত্তা সহ তাদের সামাজিক পরিস্থিতি উদ্বেগের। তিনি বলেন, রাজ্য জুড়ে পানুয় জল, শৌচাগারের সমস্যা রয়েছে। সেলিম জানিয়েছেন, জেলা ভিত্তিক বিধানসভা ভিত্তিক তাদের কী লক্ষ্য, ইশতেহারে কী লেখা হবে সেই কথা কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে কর্মশালার মাধ্যমে। মূল ইশতেহারের সাথে জেলা ভিত্তিক, বিধানসভা ভিত্তিক ইশতেহার করা হবে। বুথ ভিত্তিকও এই কাজ হবে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কৃষক সভার দপ্তর সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এক রাজনৈতিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তা ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। এছাড়া ছিলেন মহিলা সমিতির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা, রাজ্য সভাপতি জাহানারা খান, অঞ্জুর কর এবং রেখা গোস্বামী সহ নেতৃত্ব। 
সেলিম বলেন, ‘এসআইআরে মহিলারা সমস্যায় পড়েছেন বেশি। আমাদের সমাজে বিবাহিত মহিলাদের বাপ ঠাকুরদার নামের নথি পাওয়া যায় না, তারা ঘর বদলায়, সংসার পাল্টায়। কমিশন বলছে শুধু স্বামীর পরিচয় দিলে হবে না বাপ, ঠাকুরদার পরিচয় নথিও দিতে হবে। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সহ বামপন্থী সংগঠন গুলো এর বিরুদ্ধে বার বার সরব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সমানাধিকারের দাবিতে লড়াই চলছে। এই সমাজে সেই সমানাধিকার দেওয়া হয় না। বিদ্যাসাগর, রামমোহন এই লড়াই করেছেন। পৃথিবীর অনেক দেশে আগে মহিলাদের ভোটাধিকার ছিল না। আমরা বামপন্থীরা পঞ্চায়েত পৌরসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।’
সেলিম বলেন, ‘আসিফা, হাথরাস থেকে হাঁসখালী মহিলারা আক্রান্ত। লড়াই সমানাধিকার, সমতা জন্য।’
কমিশন এবং তৃণমূলকে নিশানা করে সিপিআই(এম) এর রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিয়ে দিতে চাইছে। তৃণমূল এরাজ্য বুথ থেকে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে মানুষকে ভোট দিতে দেয় না। গুন্ডা দিয়ে ভোটলুঠ করা হয়।’
রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘মুখে কন্যাশ্রীর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যে ড্রপ আউট বাড়ছে। কুসংস্কার বাড়ছে। মহিলাদের ওপর আক্রমণ বাড়ছে। ডাইনি প্রথা বাড়ছে, নারী পাচার বাড়ছে। নারী নিরাপত্তা নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে আজ সমানাধিকার আক্রান্ত। ভাতা দিয়ে সব হয় না। যে সরকার ডবল চাকরি বলেছিল কিন্তু আজ বেকার ভাতার লাইন তার মিথ্যা প্রমাণ করছে।  একটা প্রজন্মকে শেষ করেছে তৃণমূল। যুবসাথী, যুবশ্রী সরকারের ব্যর্থতার মাইল ফলক।’ 
কেরালা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রথম অন্তত ২৫ বছর আগে কুডুম্বশ্রী চালু করেছিল। মহিলারা নিজের পায়ে স্বনির্ভর হয়েছেন সেখানে।’

Comments :0

Login to leave a comment