SEKH SHAHJAHAN

শাহজাহানের ভাইয়ের ভেড়িতে আগুন, গ্রামের মাঠ দখল মুক্ত করলেন গ্রামবাসীরা

রাজ্য

রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সন্দেশখালি ছাড়তেই ফের বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার ঝুপখালিতে শেখ শাহজাহানের মেজো ভাই শেখ সিরাজউদ্দিনের মেছো ঘেরি আগুনে পুঁড়ে ছাই হয়ে গেল। স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তেজিত গ্রামের মানুষ মেছো ঘেরির আলঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ডিআইজি বারাসত রেঞ্জের ভাস্কর মুখার্জির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী সেখানে পৌঁছালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পুলিশকর্মীদের ঘিরে ধরেন চলে বিক্ষোভ। শেখ সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তাঁরা। ডিআইজি বারাসত দখল হয়ে যাওয়া জমি, দোকানঘর, ভেড়ি দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেন। তারপরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে উত্তেজনা তৈরী হতে দেখা গেল সন্দেশখালি। যাতে আর নতুন করে কোনও অশান্তি না হয়, তাই গ্রামে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঋষি অরবিন্দ মিশন ময়দানের দখল নিল গ্রামবাসীরা।


অভিযোগ, সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহানের মেজো ভাই শেখ সিরাজউদ্দিন সন্দেশখালির ঝুপখালিতে দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামেরই একটি জমি দখল করে মেছো ঘেরি তৈরি করে। বার বার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শুধু তাই নয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এভাবে সে কারও চাষের জমি, কারও মেছো ঘেরি, আবার কারও দোকানঘর দখল করে নিয়েছে। এদিন দুপুরে শেখ সিরাজউদ্দিনের ভেড়ির কাছে জড়ো হন স্থানীয়রা। সামনের সারিতে ছিলেন মহিলারা। সিরাজের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। লাঠি উঁচিয়ে সিরাজের দিকে কার্যত তেড়ে যান মহিলারা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বাইকে চড়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় সিরাজ উদ্দিন।
অন্যদিকে সন্দেশখালি থানার অদূরে ঋষি অরবিন্দ মিশন ময়দানের দখল নিল গ্রামবাসীরা। বনসৃজনের কয়েক হাজার গাছ কেটে এই মাঠ দখল করে শেখ শাজাহান ও তার অনুগামী শিবু হাজরা উত্তম সর্দাররা। পরে সেখানে শেখ শাহজাহান ফ্যানস ক্লাব তৈরি করা হয়। মাঠে সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। এলাকার মানুষ এই মাঠ ফিরে পেতে চলতি মাসের শুরুতেই সন্দেশখালি থানা, বিডিওর দ্বারস্থ হয়। থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে এবং পরবর্তীতে বিডিও সন্দেশখালি -২ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাঠের আশপাশে শাহজাহানের নাম লেখা দেওয়ালেও চুনকাম করে দেওয়া হয়। 
প্রত্যন্ত এই সন্দেশখালিতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল শাহজাহান, উত্তম, শিবুরা। সরকারি জমি দখল থেকে শুরু করে খেলার মাঠের দখল, বিঘার পর বিঘা কৃষিজমির দখল নিয়ে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়ার মেছো ঘেরি তৈরি করে। শাহজাহানের কোবরা বাহিনীর অত্যাচারের অভিযোগ করেছিলেন গ্রামবাসীরা। শিবু, উত্তম গ্রেফতার হলেও এখনও শাহজাহানের খোঁজ নেই। এ বার সেই শাহজাহানের দখলদারিও হটানো শুরু হল সন্দেশখালি থেকে। এ বার সেই মাঠ আবার ফিরল কচিকাঁচাদের কাছে। প্রতিদিন আবার খেলা হবে সবুজ মাঠে। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের কর্তারা গ্রামের বাচ্চাদের ফুটবল দেন, জার্সি পরিয়ে দেন। তার পরেই মাঠে শুরু হয় খেলা।

Comments :0

Login to leave a comment