শিক্ষা বাঁচাতে, যাদবপুরের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে যাদবপুর ৮বি’র গণজমায়েতে উপস্থিত বহু মানুষ। বামপন্থী সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে যেমন জমায়েত করা হয়েছে, তেমন বহু সাধারণ মানুষও সেই জমায়েতে অংশ নিয়েছেন।
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায় আরএসএস’এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রশাসনিক ভবন অরবিন্দ ভবনের বাইরে পোড়ানো হয় এসএফআই সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন গুলোর পতাকা। বহিরাগতদের হাতে আক্রান্ত হন পড়ুয়ারা। এই ঘটনার প্রতিবাদ এদিন যাদবপুরের সামনে গণজমায়েতের ডাক দেওয়া হয় এসএফআই সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন গুলোর ডাকে। পাল্টা গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মিছিলকের ডাক দিয়েছে এবিভিপি।
ছাত্র নেতৃত্বের কথায়, যাদপুরের ঐতিহ্যকে শেষ করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের কথায়, বিজেপি আরএসএস’এর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে সব সময় সরব হয়েছে যাদবপুর। তাই যাদপুরের ওপর এই হামলা। এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যাদবপুর থানা থেকে ৮বি পর্যন্ত যেই রাস্তা সেখানে বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত করে রয়েছে এবিভিপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তাদের দাবি অবিলম্বে এই জমায়েতকে সড়াতে হবে। বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন যাদবপুরের পড়ুয়া এবং অধ্যাপকরা।
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘বিজেপির বিধায়কের মদতে বিজেপি গুন্ডারা এই হামলা করেছে। গণতন্ত্রের ওপর এই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে বার বার যাদবপুর লড়াই করেছে। ভবিষ্যতেও লড়াই করবে। বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে যাদবপুরে এই হামলা করেছে।’
গতকালের ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলেছেন যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মত থাকতেই পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পড়াশোনা এবং মত আদানপ্রদানের জায়গা। সেখানে এই ভাবে সংঘাতে জড়ানো খুবই অনভিপ্রেত। উৎকর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাদবপুর বার বার ভুল কারণে সংবাদ শিরোনামে আসছে। এটাও খুব খারাপ বিষয়।’
গতকাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফেকাল্টির ছাত্রসংগঠন ফেটসু (FETSU) -র জেনারেল বডি মিটিং চলাকালীন এই ঘটনার সুত্রপাত হয় বলেই জানা যাচ্ছে। সেই মিটিং এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়াকে এবিভিপি মারধর করে বলেও জানা যাচ্ছে। বর্তমানে সেই ছাত্র কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এসএফআই- র অভিযোগ, এনএসএফ ও এবিভিপি'র নিখিল দাস ও সোমসূর্য ব্যানার্জি নামে দুই কর্মী জেনারেল বডি মিটিং চলাকালীন 'দেশদ্রোহী' বলে ছাত্রদের উপর চড়াও হয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অল্প বিস্তার বচসা হলেও পরে তা মিটে যায়। এরপর, যাদবপুরের বিজেপি বিধায়িকা শর্বরী মুখার্জির মদতে রাত বারোটা নাগাদ এবিভিপি সহ বহিরাগত যুব মোর্চার একটি দল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসে এই হামলার ঘটনাটি ঘটায়। গোটা ঘটনাটি যখন ঘটছে তখন বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীদের গোটা ঘটনায় নিশ্চুপ থাকেন। যাদবপুর থানায় জানানো হলেও সেখান থেকে এখনও অবধি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ উপাচার্যকে ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। এমনকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হোস্টেলের সামনে ছাত্রদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ বিজেপির যুব মোর্চার গুন্ডারা। মেন গেট ভাঙার চেষ্টা হয়। নিরাপত্তা রক্ষীরা দাঁড়িয়ে দেখেন সেই ঘটনা। মেন হোস্টেলের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে যাদবপুর থানা। সেখানেও পুলিশ আসেনি বলে অভিযোগ।
Comments :0